জাতীয় পতাকাতেই জীবিকা

আপডেট: 07:40:58 07/12/2016



img
img

আসাদুজ্জামান আসাদ : মানবিক এক বিপর্যয়ের মুখে স্কুল ছেড়ে পথে নামতে হয়েছে রুবেল (২০) নামে এক যুবককে। তার উপার্জিত অর্থে সংসার চলছে; লেখাপড়া করছে ছোট দুই ভাইবোন।
তাই ফরিদপুর থেকে যশোরে এসে বিক্রি করছেন জাতীয় পতাকা, দেশের পতাকাসমৃদ্ধ মাথার ও হাতের ব্যান্ড। যশোর শহরের পরিচিত রাস্তায় দেখা মিলছে রুবেলের।
চলতি পথে কথা হয় রুবেলের সঙ্গে। তিনি জানান, তার জীবনে ঘটে যাওয়া করুণ কাহিনি।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার হামিদিয়া এলাকার চুন্নু খাঁর ছেলে রুবেল ২০১৫ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে বছর তাদের এলাকার ঝাটুকদিয়া বাজারে পিকআপ আর অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হন পরের জমিতে কিষেণ দেওয়া চুন্নু খাঁ। দুর্ঘটনায় তার বামহাতটি কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে তিনি আর কিষেণ দিতে পারেননি। অগত্যা সংসারের হাল ধরতে হয় রুবেলকে।
রুবেল বলেন, ছোটবোন রুপালি অষ্টম শ্রেণি আর ভাই রানা পঞ্চম শ্রেণিতে স্থানীয় পুরাদিয়া হাইস্কুলে পড়াশুনা করে। সংসারের খরচ বাদেও বাবার ওষুধ ইত্যাদি সব কিছুই চলে তার উপার্জনে।
তিনি জানান, বছরের এই সময়ে বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে তিনি যশোরে এসেছেন অপর বন্ধু রুহুল আমিনের পরামর্শে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা, ব্যান্ড এসবের বেশ চাহিদা থাকে। লোকজন সেগুলো আগ্রহ ভরে কেনেও।
জাতীয় পতাকা বিক্রির আগে রুবেল এলাকায় পরের জমিতে কিষেণ দিয়েছেন। তাছাড়া ভ্যানও চালিয়েছেন জীবিকার তাগিদে।
তিনি বলেন, তাদের গ্রামের লিয়াকত নামে এক মহাজনের কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার শর্তে ১০-১২ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সেই টাকা দিয়ে পতাকা, ব্যান্ড ইত্যাদি কিনে যশোরে বিক্রি করছেন।
তিনি জানান, পতাকার সাইজ অনুসারে দাম; সেক্ষেত্রে পতাকার দাম পড়ে দশ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আর ব্যান্ডের দাম দশ টাকা এবং ছোট হাতপতাকাও দশ টাকা।
রুবেলের সঙ্গে রয়েছেন তারই বন্ধু রুহুল আমিন। তিনিও একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। তার উপার্জনেও চলে সংসার। তিনি চার বছর ধরে পতাকা ও ব্যান্ড বিক্রির কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি পতাকা বিক্রি করছেন।
তিনি জানান, মূলত পতাকা বিক্রি করে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। অন্যসময় পরের জমিতে তিনিও কিষেণ দেন।

আরও পড়ুন