জামানত খোয়ানো জামায়াতের দরকষাকষির শক্তি কমবে

আপডেট: 02:12:12 01/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : হাঁকডাক দিয়েই সিলেটে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিল জামায়াত। জোট শরিক বিএনপির অনুরোধ উপেক্ষা করে অনেকটা শক্তি প্রদর্শনের মহড়ায় নেমেছিল যুদ্ধাপরাধের বিচারের পর ঝিমিয়ে পড়া দলটি। অনেকে ভেবেছিলেন শেষ মুহূর্তে হয়তো নির্বাচন থেকে সরে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেবে তারা। কিন্তু দেখা গেছে, উল্টো চিত্র। শেষ মুহূর্তে অনেকটা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিয়ে বিশাল শোডাউন করে। ভোট নিয়ে নেতারা প্রচার করেছিলেন নানা তথ্য।
বলা হচ্ছিল জামায়াত প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জোবায়ের ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোট পাবেন। ব্যক্তি ইমেজে তার বাক্সে আরো কিছু ভোট আসতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের ফল ভুল প্রমাণ করেছে দলটিকে।
১০ হাজার ৯৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। ভোটের ফলে অনেকটা নাটকীয়ভাবে জয়ী হওয়ার পথে থাকা বিএনপি’র প্রার্থী আরিফুল হককে নিয়ে আলোচনার সঙ্গে জামায়াতকে নিয়েও চলছে নানা হিসাবনিকাশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিলেটের ভোটে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে রাজনীতিতে নয়া মেরূকরণ হতে পারে। জোটের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে দলটি আগের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়বে। এছাড়া বিএনপি’র সঙ্গে দূরত্বও বাড়বে জামায়াতের এমন অবস্থায় কী ভাবছেন জামায়াত নেতারা। সিলেটে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। তারা যেমনটি চেয়েছিলেন তার প্রতিফলন হয়নি। জামায়াত নেতাদের দাবি নির্বাচনের দিন তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি। অন্তত ১৯টি কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে।
এসব কেন্দ্রে তাদের অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। বিএনপির জোট সঙ্গী জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে। নানা ইস্যুতে সম্প্রতি দলটির সঙ্গে বিএনপির বনিবনা হচ্ছে না বলেও আলোচনা আছে। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কও এখন সুতোয় ঝুলে আছে। এ অবস্থায় সিলেটের ভোটের ফল নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিলেটের ভোটের হিসেবে সামনে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত দরকষাকষি করে শরিকদের কাছ থেকে আসন আদায়ের ক্ষেত্রেও অনেকটা কোণঠাসা অবস্থানে থাকবে। নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর জামানত রক্ষায় আরো ১৩ হাজার ভোটের প্রয়োজন ছিল।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের পর জামায়াত নেতারা বলেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জানান দিতে চান সিলেটে তাদের বিপুল সমর্থন রয়েছে। এছাড়া নানা কারণে চুপসে থাকা নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নামতে পারবেন। কিন্তু দৃশ্যত নির্বাচনে তাদের এ দুটি লক্ষ্যের কোনোটিই পূরণ হয়নি। ভোটের সংখ্যায় দলটির প্রতি ভোটারদের আগ্রহে ভাটারই জানান দেয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের দিন মাঠে দলটির নেতাকর্মীদের তেমন তৎপরতাও দেখা যায়নি।
বিএনপি ঘরানার লোকজন উল্টো জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে নির্বাচনে থেকে জামায়াত আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সুবিধা দিয়েছে। নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের সহাবস্থানও কারো কারো নজর কেড়েছে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, একদিক থেকে জামায়াত দূরে থাকায় লাভ হয়েছে দলীয় প্রার্থীর। অন্তত সংখ্যালঘু প্রার্থীদের সামনে জামায়াত নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি। এদিকে জামায়াত নিয়ে সিলেটের নাগরিক সমাজের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বলছেন, জামায়াত নির্বাচনের আগে ফাঁকা আওয়াজ তুলে দলীয় সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছে। আসলে তারা যে কর্মীনির্ভর দল তাই নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। সামনে জাতীয় রাজনীতিতে দলটির ভূমিকা কী হবে তার একটা জবাব মিলেছে এই নির্বাচন থেকে।
[মানবজমিনের বিশ্লেষণ]