জামিন আর মুক্তির মাঝে ফারাক কতটা

আপডেট: 02:23:27 14/03/2018



img

বাহাউদ্দিন ইমরান : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর পরপরই কুমিল্লায় দায়ের করা নাশকতার আরেক মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) দেখানো হয়েছে। ফলে হাইকোর্ট থেকে জামিন মিললেও নতুন করে পরোয়ানা জারির কারণে খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তি নিয়ে শঙ্কা দানা বেঁধেছে।
খালেদা জিয়ার কয়েকজন আইনজীবীর দাবি, হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর কুমিল্লার নাশকতার মামলার পিডব্লিউ তার জামিন পেতে কোনো বাধা হবে না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু ইতিমধ্যে পরোয়ানা দেখানো হয়েছে তাই ওই মামলাতেও খালেদা জিয়াকে আলাদাভাবে জামিন চাইতে হবে।
নিয়ম অনুসারে, হাইকোর্টে জামিন আদেশের পর সেখানে স্বাক্ষর করেন আদেশদাতা বিচারপতিরা। সে হিসেবে গত ১২ মার্চ আদেশের পর মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) তার লিখিত অনুলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতিরা। এরপর আরেক ধাপে আদেশটি হাইকোর্টের ডেসপাস (আদান প্রদান) সেকশনে যায়। সেখান থেকে আদেশটি যাবে বিচারিক আদালতে। ওই আদালতে একটি রিলিজ অর্ডার তৈরি করা হবে। সে অর্ডার পাওয়ার পরই কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে।
ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের অনুলিপি বিচারিক আদালতে যাওয়ায় তার জামিনে মুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। কিন্তু অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে তিনি এই জামিন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তি পাবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পিডব্লিউ জারি করা করেছেন সেখানকার আদালত। এই পিডব্লিউর মানে হলো আসামি অন্য মামলায় কারাগারে আছেন, এই মামলাতেও তিনি কারাগারে থাকবেন। তাই কুমিল্লার নাশকতার মামলাতেও খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন বলে ধরে নিতে হবে। ফলে এ মামলায়ও জামিন না হওয়া পর্যন্ত তার জামিনের (জামিনে কারামুক্তি) সুযোগ নেই।’
এর আগে ১২ মার্চ কুমিল্লায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে আগামী ২৮ মার্চ তাকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করে তাকে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে পিডব্লিউ জারি করেছেন কুমিল্লার পাঁচ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুস্তাইন বিল্লাহ।
মামলাটির বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘হাইকোর্টে তিনি (খালেদা জিয়া) জামিন পেয়েছেন। তাই জামিনে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। ’
তবে একই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার অন্য এক আইনজীবী বলেন, ‘কুমিল্লার মামলায়ও তাকে জামিন পেতে হবে। নইলে আপাতত তার কারামুক্তি সম্ভব নয়।’
তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট দেখানো হলে তা প্রত্যাহার চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।
এদিকে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপিলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল না স্থগিত হবে, তা নিয়েও কারামুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে খালেদা জিয়াকে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন