জাল আকামায় সর্বনাশ মহেশপুরের কামালের

আপডেট: 03:32:55 01/04/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দিনমজুর ও নিজের অল্প জমিতে খেটে খুটে চলে যাচ্ছিলো হতদরিদ্র কামালের সংসার। এরই মধ্যে নিজ গ্রামের আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলুর প্রলোভনে পড়েন তিনি। পাড়ি জমান বিদেশে। উদ্দেশ্য ছিল, সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্য আনা, একটু ভালোভাবে জীবনযাপন করা।
কাতারে গিয়ে দশ মাসেও কোনো কাজ পাননি তিনি। এক পর্যায়ে জাল আকামা লাগিয়ে দেন রুহুল আমিন রুলু। ধরা পড়ে বহিষ্কার হন কাতার থেকে।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে নিজের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কামালের। এখন প্রতারণার বিচার আর টাকা উদ্ধারের আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন তিনি।
কামাল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ঘুগরি গ্রামের নবিছদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল গনি বিশ্বাস বিদেশে নিয়ে যেতে প্রলুব্ধ করে। কাতারে উচ্চ বেতনে কাজ করার লোভ দেখায় আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু। দক্ষ না হওয়া সত্ত্ব্ওে ২০১৭ সালের ১ মার্চ টেকনিশিয়ান ভিসায় আমাকে কাতারে নিয়ে যায় রুহুল আমিন। এর আগেই পরিশোধ করা হয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।’
এমিরেটসের জি-৯৮৫৭ নম্বর ফ্লাইটে কাতারে পৌঁছালে বিমান বন্দর থেকে কামালকে নিয়ে যান রুহুল আমিন। কামাল অভিযোগ করেন, সেখানে তাকে প্রায় দশ মাসেও কোনো কাজ জুটিয়ে দিতে পারেননি রুহুল আমিন। উপরন্ত জাল আকামা লাগিয়ে দেন। বিদেশে তার ওপর নেমে আসে দুঃসহ নির্যাতন। কাজ নেই। খাওয়াও নেই। বাধ্য হয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করে দিন কাটাতে থাকেন। পরে জাল আকামা ধরা পড়ায় কাতার থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।
কামাল আরো জানান, প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে গিয়ে আদম ব্যাপারি রুহুল আমিন রুলু শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো পাত্তাই দিতেন না। উপায় না পেয়ে আশ্রয় নেন এলাকার এক ভাই ঘুগরি গ্রামের রসুল বিশ্বাসের ছেলে মফিজ উদ্দীনের কাছে। তিনিও কাতার থাকেন। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মফিজের সহায়তায় দেশে ফিরতে পারেন কামাল।
‘দেশে ফিরে আমি প্রতারণা, জাল আকামা দিয়ে ক্ষতি করার প্রতিকার চাই। টাকা ফেরতের দাবিও জানাতে থাকি গনি বিশ্বাসের কাছে। তিনি আমাকে টাকা ফেরতের আশ্বাসও দেন। এরপর থেকেই আমি ঘুরতে থাকি তার পেছনে। গনি বিশ্বাস টাকা ফেরত তো দূরের কথা, এখন আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে।’
কামাল হোসেন আরো জানান, তিনি সুবিচার চেয়ে পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ করবেন।
পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর রফিউদ্দীন ভুক্তভোগী কামালের বর্ণনা ঠিক বলে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টাকা উদ্ধারে সামাজিকভাবে অনেক বার বসা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু টাকা ফেরত দেওয়ার নামে শুধুই ঘোরাচ্ছেন।
পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিদেশে নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ আমার ইউনিয়ন পরিষদে করেনি। তবে লোকমুখে আমি বিষয়টি শুনেছি। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলে অবশ্যই বিচার করা হবে।’