জাহিদুর রহিমের পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 02:25:02 05/07/2017



img

তুমি চলে গেলে

চোখ মেলতেই উড়ে যায় খোলসে বন্দী স্বপ্ন, রাস্তায় স্যাঁতস্যাঁতে ঘোর, ভেজা বাতাসের চলাচল- তুমি চলে গেলে। শূন্য এর ভর শারীরিক নয়, হয়তো কোমল অনুপস্থিত বিদ্যুৎ, যেমন প্রথম স্পর্শের রেশ- যেমন হারানো আলো- যেমন জীবনের প্রাঞ্জল সাঁতার; এক সাথে ভাগ করা জীবনের নিস্তরঙ্গ গতি- তারপরও স্থির নিঃসঙ্গ। তুমি চলে গেলে, কত কথা বলা হলো না।
মনে করো যেখানে তুমি স্থবির নিঃশ্বাসে ফিরে চেয়েছো অপলক, যেখানে তুমি আমি কেউ নেই; মনে করো তুমি ফিরে এসেছ বর্ষায় সন্ধ্যায়- এই ভেজা কাতরতায় জানালার কাচে- মেঘ ঢাকা আকাশে তোমার অস্পষ্ট কথার কম্পিত অনুরাগ যায় দূর হতে দূরে- জানালার কাচে- বহু দূরে আকাশের বিষাদ ধুসরতার আড়ালে।




মনে পড়া

শরীরের কথা ভাবি কখনো কখনো; যেন আকাশ থেকে দেখা মাটি আর কাদা- এক হয়ে থাকা চোখের সুর্মার মতো নির্ভুল এক অপরূপ।
শরীরের কথা মনে পড়ে যেন পুরনো দিনের কথা- যেন বহু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একাকী জংশন- যেন বিপরীতে ছুটে আসা দুটো ট্রেন- যেন প্রতিধ্বনির বুকে শুয়ে থাকা ধ্বনির আদর।
কোথায় আছ শরীর- এই বোকা অবেলায়; এত চুপ চাপ- ব্যথা ভরা বকুল, শান্ত হয়ে আছ- এতোটা সরে গেছো কবে।




মানুষ কলুষ তবু

মানুষ কলুষ তবু ফিরে যাই মানুষের কাছে; আর কোথায় বা যেতে পারি? কাদা জল পার হয়ে বড় রাস্তায় উঠলেই জানি, পথ জুড়ে দাঁড়াবে গাঁয়ের মাস্তান। মানুষ মরে, সে তো মরে বিস্মরণে, প্রতিদিন কত লাশ জমা হয় রক্ত হ্রদের তীরে।
তাই ফিরে আসি- মানুষ যে আমায় চেনে; অন্যায় যতই হোক- আমার ভালোবাসার প্রতিশোধ হতে কেউ পারবে না পালাতে।
মানুষ কলুষ- তবু ফিরে যাই মানুষের কাছে।




সারাদিন বসে বসে

সারাদিন বসে বসে ছবি দেখি- কথা শুনি- খুব কাছে মুখ নিয়ে মুখ দেখি, মাথা নাড়ি বুঝতে পারার মতই!
ভালোবাসা যেন সরোদের তান; চেনা বোধে চলা ছায়ার মতো সহযোগিতার বোধ এক, সারাদিন বসে বসে এই ভাবি, কী করে কথা বলে পাথরে পাথরে; দেয়ালে বাঁধানো ধ্বনি- নকল আলোয় বর্ণ ছড়ায়, শিয়রে দাঁড়িয়ে নাচে হারানো স্মৃতির পাখি...।




নয় দূরে কোথাও

রক্ত মাংসে ভিড় করা সুখ, যাকে আদর করে ভালোবাসা ডাক- সেওতো ক্ষণিক সেওতো সহজ- যেমন ফেলে আসা পথের চিহ্ন মুছে নির্ভুল পথ চেনে আয়ু; বুকের বাঁ পাশ ঘুরে শিরার উপপথে তরঙ্গে তরঙ্গে ঘূর্ণন; কাব্যে-নন্দনে-অমরতায়-আবেগে, যাকে তুমি মায়ার ছলনা বল- সেও বুড়ো হয়- আমাদের প্রাণময় স্পর্শের উষ্ণতার মতো, হয় ভিজে অস্তিত্বহীন- অবয়বহীন; থেমে গেলে সংগীত- নদীও পেরুনো যায়- বেড়ে যায় পরিচয়ের দেনা, যেমন মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠে ফসলের ঋণ; মুক্ত হও- নিজেকে ভেঙ্গে দেখো হাওয়া ঘর, জানবে সবকিছু- পরাজয় লিপি, যেমন পতঙ্গ জেনে যায় সুগন্ধের গোপন সংসার, জানবে কী করে মিশে যায় গোপন দ্রবণ- ফাল্গুনে পাখিদের ডানায়; যাতে ভুল করে হৃদয় পাথর না ভালোবেসে ফেলে।


[জাহিদুর রহিম : জন্ম ১৭ ডিসেম্বর, রংপুরে। স্নাতকোত্তর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। আড্ডা, ভ্রমণ, বই পড়ায় বিশেষ আগ্রহী। আগ্রহ রয়েছে মানবিক জ্ঞানের সব শাখায়। প্রবন্ধ ও কবিতা লিখতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। প্রকাশিত কাব্য : সুন্দর দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ।]