জীবন-জীবিকা বাঁচাতে গড়াই ড্রেজিংয়ের দাবি

আপডেট: 07:58:37 24/08/2017



img
img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : বর্ষায় ভেসে প্লাবিত হচ্ছে ফসলি জমি। শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমির মতো ধু-ধু বালুচর। পদ্মার প্রধান শাখা গড়াইয়ে দুই মৌসুমে এই বিপরীত রূপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, জেলেসহ নদী পাড়ের হাজার-হাজার মানুষ।
শুধু জীবন জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব নয়, বছরের অধিকাংশ সময় গোটা নদীর বুক জুড়ে বালু চর পড়ে থাকায় ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। যে কারণে এলাকাবাসীর দাবি শ্রীপুরের রাজধরপুর থেকে দোরননগর-লাঙ্গলবাঁধ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত ড্রেজিং করে অথবা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট চ্যানেল থেকে বালি কেটে সারা বছর বাঁচিয়ে রাখা হোক জেলার প্রধান এই নদীটিকে।
দোরণনগর গ্রামের মৃদুলকান্তি ঠাকুর জানান, শুস্ক মৌসুমে প্রায় আট মাস গড়াইয়ের বুকজুড়ে মরুভূমির মত ধু-ধু বালু চরের সৃষ্টি হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যায়। চলতি বর্ষায়ও নদী-সংলগ্ন এলাকার বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে শত শত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে তার নিজের এক বিঘা জমির ফসল পানিতে নষ্ট হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হওয়ায় আরো জমিতে তিনি চাষাবাদ করতে পারছেন না।
মৃদুল ঠাকুর জানান, শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। এক সময় শ্রীপুরের রাজধরপুর থেকে দোরাননগর, আমলসার, লাঙ্গলবাঁধ এলাকার নদী তীরবর্তী কমপক্ষে ২০ গ্রামের জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু শুস্ক মৌসুমে বছরের কমপক্ষে আট মাস নদীর বুক জুড়ে মরুভূমির মতো ধু-ধু বালুচরের সৃষ্টি হওয়ায় সে সব জেলে এখন বেকার হয়ে পড়েছেন বা পেশা বদলেছেন।
দোরননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুভা বিশ্বাস জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গড়াই নদী ড্রেজিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আবেদন-নিবেদন করে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘এক সময় দোরননগর, বিষ্ণুপুর এলাকায় ইজারাদার দিয়ে নির্দিষ্ট চর কেটে বালি অপসারণ করা হতো। এতে করে শুষ্ক মৌসুমে অন্তত আমাদের এলাকায় নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতো। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যেমন নদীর পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করে জমির ফসল ফলাতে পারতেন, পাশাপাশি জেলেরা মাছ শিকার করে সহজে জীবন ধারণ করতে পারতেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে গত দুই বছর ধরে বালির চর কাটাও বন্ধ রয়েছে।’
এলাকাবাসী জিল্লুর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় কাদিরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী নিজে বালির চর লিজ নিতে না পেরে বিভিন্ন মহলে নদী ভাঙনের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চর কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে ব্যক্তি স্বার্থে তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি. ড্রেজিং বা ইজারার মাধ্যমে বালি কেটে নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হোক।
দোরাননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘গড়াই নদীর পলি অপসারণ অত্যন্ত জরুরি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ের জন্য প্লাবিত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় পলি পড়ে নদীর বুক জুড়ে চরের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ সময় নদী পানিশূন্য থাকায় জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নদীকে ঘিরে সৃষ্ট জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ায় কারণে প্রকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।’
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ গড়াই নদীতে পলি পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নদী বাঁচাতে ড্রেজিং বা নির্দিষ্ট চ্যানেল থেকে বালি অপসারণ প্রয়োজন। এতে করে ভাঙন রক্ষা ও নদী বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন