জেলে থেকেও ছয় পেন্ডিং মামলার আসামি অমিত

আপডেট: 07:02:08 13/05/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নামে দুই দিনে মোট ছয়টি পেন্ডিং মামলা দিয়েছে পুলিশ। কারামুক্তি ঠেকাতে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ দুইদিনে মামলাগুলো দিয়ে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ রোববার পুলিশ আদালতে অমিতকে তিনটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের জন্য আবেদন করে। এ আগে গত বৃহস্পতিবার তাকে তিনটি পেন্ডিং মামলায় অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আবেদন করেছিল পুলিশ। জামিনে মুক্তি আটকাতে এমন নজির এর আগে কেউ দেখেননি বলে জানান বিএনপি নেতারা।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী তিনি। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর এখন ৩০টি মামলার আসামি অমিত।
গত ২০ এপ্রিল নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার খাশিয়াল গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের বাড়িতে কর্মিসভায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন অমিত। সেখান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর নড়াগাতি থানায় নাশকতার মামলা দিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া চলাকালে দুই দিনে আরো ছয়টি পেন্ডিং মামলায় আসামি করা হলো তাকে।
অমিতের বাবা তরিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ। বর্ষীয়ান এই নেতা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবারটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সেখানকার ডাক্তাররা। কিন্তু ছেলে অমিতের কারামুক্তি একের পর এক আটকে দেওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে ডাক্তারদের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
অমিতের আইনজীবী আলী মোর্তজা ছোট বলেন, ‘কোনো নেতার জামিন আটকাতে এভাবে একের পর এক পেন্ডিং মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের জন্য পুলিশ আবেদন করেছে- এমন নজির আছে কিনা আমার জানা নেই।’
যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, অমিতসহ ৫৪ নেতাকর্মীকে ২০ এপ্রিল নড়াইল জেলা বিএনপির একটি সভা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর অমিতকে প্রথমে নড়াইল জেলা কারাগারে রাখা হয়। পরে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে নড়াইল জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর গত ৬ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান অমিত। ৮ মে জামিনের কাগজপত্র যশোর কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, এ দিন জেল থেকে বের হওয়ার কথা ছিল অমিতের। তবে শেষ মুহূর্তে যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশ গত ফেব্রæয়ারি মাসের একটি মামলায় তাকে আটক দেখায়। এর পর থেকে এ নেতার নামে একের পর এক পেন্ডিং মামলা দিচ্ছে পুলিশ। কয়েকদিনে মোট ছয়টি পেন্ডিং মামলা দেওয়া হয়েছে অমিতের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন