জয় দাবি ইমরানের

আপডেট: 08:11:20 26/07/2018



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জয় দাবি করেছেন সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান।
ভোট গণনা শুরুর পর বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় প্রথম দেওয়া ভাষণে তিনি এ দাবি করলেন।
নির্বাচনের পুরো ফল পেতে এখনো ঢের সময় বাকি থাকলেও এ পর্যন্ত গণনা হওয়া অর্ধেক ভোটের পরিসংখ্যানে ইমরান খান যে রাজনীতির মাঠেও ‘সেঞ্চুরি’ করে ফেলেছেন তা একরকম নিশ্চিত।
শেষ খবর অনুযায়ী, ৪৯ শতাংশ ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, পার্লামেন্টের ২৭২টি আসনের মধ্যে ইমরান খানের দল পিটিআই ১১৯ আসনে এগিয়ে আছে। অর্থাৎ, ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার থেকে খুব বেশি দূরে নেই দলটি। যেখানে নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ৬১ আসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়ালের নেতৃত্বাধীন পিপিপি ৪০ আসন নিয়ে অনেকটাই দূরে অবস্থান করছে।
ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, “পাকিস্তানে এ সরকারই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালাবে না।”
একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ভাষণটি প্রচার করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো বিশেষ করে নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন সমর্থকরা এখনো ইমরানের জয়ের ব্যাপারটি মেনে নিচ্ছেন না। ভোট গণনা এবং ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু ভোট নিয়ে এ বিতর্কের মধ্যেও অনেকেই ইমরানকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
ভাষণে ইমরান খান দেশে বৃহত্তর সংস্কারের পাশাপাশি জনগণের জন্য সর্বাত্মক নীতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেইসঙ্গে ভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদেরকেও এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোট নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করে ইমরান বলেছেন, “বুধবারের এ নির্বাচন পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আপনারা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে মনে করে থাকলে বা আপনাদের কোনো সন্দেহ থেকে থাকলে আমরা তা তদন্ত করে দেখতে সহযোগিতা করব। আমরা আপনাদের পাশে থাকব। আমি মনে করি পাকিস্তানের ইতিহাসে এ নির্বাচনই সবচেয়ে সুষ্ঠু। কোনো দলের কোনো সন্দেহ থাকলে আমরা ওইসব আসনগুলোর ভোটের ফল তদন্ত করে দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেবো।”
একটি নতুন পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমরান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আরো শক্তিশালী হবে। প্রত্যেককেই প্রত্যেকের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। প্রথমে আমি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকব। তারপর থাকবে আমার মন্ত্রীরা ও অন্যান্যরা।
দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের সম্পদ বাড়িয়ে অবস্থার উন্নতি ঘটানোরও সঙ্কল্প ব্যক্ত করেন ইমরান। প্রধানমন্ত্রীর বিশাল বাসভবনে থাকা তার জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে ইমরান বলেন, এ বাড়িটিকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এ ধরনের অন্য কোনো কিছু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে চীন, আফগানিস্তান এবং ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ইমরান। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান বলে জানান তিনি।
সূত্র : বিবিসি, ডন, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন