ঝিনাইদহের ঝাপান খেলা

আপডেট: 02:29:23 23/08/2017



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বৈডাঙ্গা গ্রামের মেয়ে সুন্দরী দাস। ঝাপান খেলা দেখতে বাপের বাড়িতে এসেছিলেন। প্রতিবছরই ঝাপান খেলার আয়োজন করেন তার বাবা-কাকারা। শ্বশুরবাড়ি থাকলেও মৌসুমের এই সময়ে বাপের বাড়ি আসেন তিনি। উদ্দেশ্যে একটাই- ঝাপান খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করা।
অন্য এলাকার মানুষের কাছে ঝাপান খেলা অনেকটাই অপরিচিত। তবে ঝিনাইদহ এলাকায় এর পরিচিতি রয়েছে। বিষধর সাপ নিয়ে কসরত দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার নামই ‘ঝাপান খেলা’।
বহুকাল ধরে ঝিনাইদহ অঞ্চলে এই খেলা চলছে। মূলত মনসা পূজা উপলক্ষে বাগদি সম্প্রদায়ের (আদিবাসীবিশেষ) লোকেরা বর্ষাকালে এই খেলার আয়োজন করেন। তবে হিন্দু-মুসলিমনির্বিশেষে উপভোগ করেন চিত্তাকর্ষক খেলাটি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বৈডাঙ্গা গ্রামে সম্প্রতি দুই দিন ধরে হয়ে গেল ঝাপান খেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তারা।
এবারের আয়োজনে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরার দশ সাপুড়ে দল অংশ নেয়। অর্ধ শতাধিক সাপের মধ্যে নিজেরটিকে সেরা প্রমাণ করতে সাধ্য উজাড় করে দেন সাপুড়েরা। আর এই কসরত দেখতে দূরদুরান্ত থেকে হাজির হন বহু দর্শনার্থী। অনেকে জীবনে প্রথম আবার অনেকে বছরের পর বছর দেখছেন এ খেলা।
এলাকার মুন্নু নামে এক ব্যক্তি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, ‘সাপ খেলা দেখা তো হয়ই; হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। তাদের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। এ যেন এক মিলনমেলা।’
ঝিনাইদহের উত্তম সাপুড়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ঝাপান খেলা করে আসছি। মানুষকে আনন্দ দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।’
জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝাপান খেলায় অংশ নেন তিনি।
এবারের ঝাপান খেলার আয়োজক কমিটি ও বৈডাংগা মনসা মন্দির কমিটির সভাপতি প্রেমকুমার জানান, গ্রামবাংলার হারাতে বসা ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন