ঝিনাইদহের পান যাচ্ছে বিদেশেও

আপডেট: 01:57:45 08/01/2019



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে পান বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে বেশ লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
যেহেতু এখানকার পান বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, তাই  বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধের দাবি চাষিদের। তাদের সঙ্গে একমত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারাও।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পান আমদানি না করে পানের নতুন ও উন্নত জাত আবিষ্কার এবং লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করা দরকার। এতে দেশে পানের সরবরাহ যেমন বাড়বে, ভোক্তারাও উন্নতমানের পান পাবেন আর কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে।
ঝিনাইদহের বেশ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে গ্রামের পর গ্রামে পানের বরজ দেখা গেছে। হরিণাকুণ্ডুর ভবানিপুরের কালিতলাপাড়ার পান চাষি আহমেদ আলী বরাবরের মতো এবারো এক বিঘা জমিতে পান চাষ করছেন। তার মতে, এবছর পান চাষে খরচ বাদে তিনি কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারবেন। এরইমধ্যে বেশ কিছু পান তিনি বাজারে বিক্রিও করেছেন।
তার মতে, একজন কৃষকের দেড় থেকে দুই বিঘা জমিতে পানের বরজ থাকলে এবং তার সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে পারলে ৫-৬ বছরেই বেশ টাকা-কড়ির মালিক হওয়া যাবে।
ভবানীপুর পানবাজারে কথা হয় বাজার মালিক সমিতির নেতা আবুল কাশেমের সঙ্গে। তিনি জানান, ঝিনাইদহের পান জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, শমসেরনগর, নবীগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পান আমদানি করায় স্থানীয় চাষিরা প্রতিবছরই মার খাচ্ছেন। তারা উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। তিনি কৃষক ও কৃষির স্বার্থে অবিলম্বে পান আমদানি বন্ধের দাবি জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলা আর পান হচ্ছে এ জেলার ব্রান্ডিং ফসল। জেলার সর্বত্রই পান চাষ করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় হরিণাকুণ্ডুতে। গতবছর জেলায় দুই হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার ৮৪ টন পান উৎপন্ন হয়েছে। এবার পান চাষ দুই হাজার ৪০০ হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে। ফলে উৎপাদনও বাড়বে। দেশে উৎপাদিত পানের প্রায় ৭০ ভাগই এ জেলায় উৎপন্ন হয়।
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের অভাবে পান চাষ করে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি ও তার বিভাগীয় পর্যায়ের মাঠ কর্মকর্তারা পান চাষকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন