ঝিনাইদহে আট পুলিশের বিরুদ্ধে পিটিশন

আপডেট: 07:46:22 13/02/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : বসতবাড়ি উচ্ছেদ করার ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইনসপেক্টর (তদন্ত) মো. ইলিয়াস মোল্লাকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন দিয়েছেন একব্যক্তি।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (শৈলকুপা) মামলাটি করেন শৈলকুপা উপজেলার হামদামপুর গ্রামের মো. গোলাম শেখ (৩২)। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, এসআই মো. রাকিব, কনস্টেবল মো. রেজানুরসহ আরো পাঁচ কনস্টেবল এবং জনৈক মামুনুর রশিদ।
পিটিশনটি আমলে নিয়ে শৈলকুপা থানার ওসি ও পিবিআইকে তদন্ত ও বাদীকে নিরাপত্তা দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফুজ্জামান।
অভিযোগ করা হয়েছে, শৈলকুপা উপজেলার হামদামপুর গ্রামের ১৭ শতক জমিতে মামলার বাদী গোলাম শেখ দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন। সেখানে পাঁচ শতক জমি নিয়ে মামলার চার নম্বর আসামি মামুনুর রশিদের সঙ্গে গোলযোগ চলছে। মামুনুর বসতবাড়ি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে আসামিরা বাদীর বাড়িতে ঢোকেন।
অভিযোগ করা হয়, এক নম্বর আসামি শৈলকুপার কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তিনি ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করতে হুকুম দেন। সঙ্গে সঙ্গে মামলার অন্য আসামি এসআই মো. রাকিব, কনস্টেবল মো. রেজানুরসহ আরো পাঁচজন কনস্টেবল বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের টিনে লাথি মারেন ও ঘরের মধ্যে ঢুকে মালামাল ভাংচুর করেন। তারা ঘরের বেড়ার টিনও খুলে ফেলেন। পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মোল্লা ও আসামি মামুনুর রশিদ রাস্তা থেকে ভ্যান ডেকে এনে তাতে টিন ওঠান।
পিটিশনে আরো অভিযোগ করে বলা হয়, ‘এ সময় আমি ঘর থেকে তিন হাজার টাকা প্রধান আসামি ইলিয়াস মোল্লাকে দিতে গেলে তিনি কাঠের বাটাম দিয়ে পেটাতে থাকেন। স্ত্রী আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে এসআই রাকিব ও অন্য পুলিশ সদস্যরা কিল, ঘুষি মারেন ও পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে তার শ্লীলতাহানি করেন।’
তবে কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইলিয়াস মোল্লা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মামলার হওয়ার বিষয়ে আমি এখনো কিছুই জানি না। আমার কাছে আইনগত ডকুমেন্ট আছে।’
শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি ছিলাম না। গতকাল এসেছি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

আরও পড়ুন