ঝিনাইদহে কারেন্ট জালে পাখি নিধন

আপডেট: 07:56:58 03/01/2017



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : পাখির হাত থেকে বাউকুল ও বেগুন রক্ষা করতে গিয়ে ঝিনাইদহে কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার চলছে। এর ফলে পাখি নিধন হচ্ছে নির্বিচারে।
প্রতিদিন জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ৫০০ বাউকুল ও হাজারো বেগুন ক্ষেতে কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পাখি। নির্বিচারে পাখি নিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বলছে, জেলায় ব্যাপকভাবে বাউকুলের চাষ হচ্ছে। কুল চাষের জন্য প্রায় ৫০০ বাগান গড়ে উঠেছে। লাভজনক হওয়ায় চাকরি না-পাওয়া শিক্ষিত বেকার যুবকরাও কুলচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
পাখির হাত থেকে এসব ক্ষেতের কুল রক্ষায় চাষিরা কারেন্ট জাল দিয়ে বাগান ঘিরে দিচ্ছেন। ৩০ ফুট উঁচু বাউকুলের বাগানে কারেন্ট জালের বেড়া দেওয়ার ফলে খোলা আকাশে উড়ে বেড়ানো শত শত পাখি ওই জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মনিরুজ্জামান জানান, অনেক পাখিই আছে যেগুলো কুল বা বেগুন খায় না। অথচ কারেন্ট জালের ফাঁদে পড়ে নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে পরিবেশবান্ধব দোয়েল, শালিক, বুলবুলি, পেঁচা, চড়ুই, কবুতরসহ নানা প্রজাতির পাখি।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাউকুলের বাগান করা মালিকরা ক্ষেতের কুল রক্ষা করতে গিয়ে বাগানে কারেন্ট জাল পেতেছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারী, নাটাবেড়ে, বেড়াদি, কাশিপুর, কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর এলাকায় শত শত বেগুন ক্ষেতের ওপরেও পেতে রাখা কারেন্ট জালে আটকে পাখি মারা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী বলছেন।
ঝিনাইদহ জেলা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির নেতা মাসুদ আহমেদ সঞ্জু বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। তবে কোনো কোনো বাগান মালিক এ সবের তোয়াক্কা করছেন না।’
তিনি পাখি নিধন বন্ধে প্রচলিত আইন প্রয়োগ করার দাবি জানান।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চাষিরা প্রাণিকূলের ক্ষতি করে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিষয়টি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
তিনি মনে করেন, কুলচাষিরা না বুঝে এ কাজ করছেন। কারেন্ট জাল পরিহার করে বিকল্প পদ্ধতিতে বাগানের পাখি তাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন