ঝিনাইদহে গমে ব্লাস্ট

আপডেট: 09:59:16 05/04/2018



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে গমে এ বছরও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে, সেকারণে হতাশা ভর করেছে কৃষকের। অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে এই রোগের আক্রমণ বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
কৃষকরা জানান, দূর থেকে ক্ষেত দেখে মনে হচ্ছে, গম পেকে গেছে। আর কয়েক দিন পরই কাটা যাবে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো। গম গাছগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের গম আবাদে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে গমের বীজ সরবরাহ ও সংগ্রহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও অনেক কৃষক নিজেদের রাখা বীজে গমের আবাদ করেছেন। গমের ব্লাস্ট ছত্রাক প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে কৃষি বিভাগ।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে জেলার ছয়টি উপজেলায় দুই হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ করেছেন। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ২০০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১২০, কোটচাঁদপুরে ৩০, মহেশপুরে ২২০, শৈলকুপায় এক হাজার ৯৪০ এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ১৯০ হেক্টর জমি রয়েছে।
জেলার মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া গ্রামের মাঠে দেখা যায়, মাহাতাপ উদ্দিন, নুর জামাল, বিশারত আলি, রশিদুল ইসলামসহ অনেক কৃষকের গমক্ষেতগুলো শুকিয়ে গেছে।
কথা হয় গমচাষি রশিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঠে এর আগে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। এবছরই রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গম।’
ভাসানপোতা গ্রামের আক্কাচ আলি জানান, দূর থেকে গমের ক্ষেত দেখলে মনে হচ্ছে পেকে গেছে। কিন্তু কাছে গেলেই দেখা মিলছে রোগের কারণে গমগাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
এবিষয়ে মহেশপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু তালহা বলেন, কৃষকরা নিজেদের রাখা বীজ দিয়ে গমের আবাদ করেছেন। যারা আবাদ করছেন তাদের ফসল সম্পর্কে কৃষি বিভাগ সব সময় সতর্ক রয়েছে। তাদের প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছেন।’
উপজেলার কোথাও এবছর ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা গেছে বলে সংবাদ পাননি বলে দাবি করেন কৃষি কর্মকর্তা তালহা।
বিএডিসি ঝিনাইদহের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সফিউদ্দিন সবুজ জানান, ঝিনাইদহে গম আবাদে ব্লাস্ট রোগ দেখার পর গত ক’বছর বীজ সংগ্রহ বন্ধ করা হয়েছে। বিএডিসি বীজ বিতরণও করেনি। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগ কৃষকদের গম আবাদে নিরুৎসাহিত করছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে গমের ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত উদ্বোধন করা হয়েছে। যা বারি গম-৩৩ নামে পরিচিত। এই জাত জাতীয় বীজ বোর্ড এ মৌসুমে অনুমোদন দিয়েছে। এই জাতের গম কৃষি খামারে আবাদ হচ্ছে। আগামী বছর থেকে এই বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপপরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, কৃষকদের গম আবাদে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এরপরও কিছু কৃষক নিজেদের রাখা বীজে গমের আবাদ করেছেন। তবে এখনো গমে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বিশ্বে প্রথম ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দেয় ব্রাজিলে। পরে তা ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছর যেতে না যেতেই সে দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক ব্যবস্থার কারণে আর ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়নি তাদের। কিন্তু এর পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গমে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিচ্ছে।
২০১৬ সালে ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার মাঠে গমের আবাদে ব্লাস্ট ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। সে সময় মাঠ পর্যায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন কৃষি বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক গম গবেষকরা। গমে ব্লাস্ট রোগ নির্ণয় করার পর জেলায় হাজার হাজার একর গম আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।

আরও পড়ুন