ঝিনাইদহে তিনদিনে আটজনের অপমৃত্যু

আপডেট: 02:20:25 22/04/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহে গত তিন দিনে আটজনের অপমৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে এবং একজনকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন এবং মায়ের হাতে মেয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শৈলকুপা উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামে স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে লাশ নিয়ে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন মৃতার স্বজনরা।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, প্রেম করে প্রায় এক বছর আগে উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামের ফিরোজ হোসেনের মেয়ে সোনিয়ার বিয়ে হয় একই গ্রামের বাদশা হোসেনের ছেলে সজীবের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে সোনিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই জের ধরে রোববার সকালে সোনিয়াকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রেখে তালা দিয়ে পলিয়ে যায় অভিযুক্ত। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শৈলকুপ সার্কেল) তারেক আল মেহেদি বলেন, গতকাল সোনিয়া আত্মহত্যা করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। সোনিয়ার একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে, সেখানে উল্লেখ আছে তার মৃত্যুর জন্য কে কে দায়ী। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয় এলে হত্যা মামলা আর আত্মহত্যার রিপোর্ট এলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেওয়া হবে।
এদিকে, সোমবার দুপুরে ট্রাকের ধাক্কায় সুমি (৩২) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের ক্যাডেট কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমি জেলার শৈলকুপা উপজেলার ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী।
এর আগে রোববার রাতে ঝড়ের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় শাহিনুর ইসলাম লিখন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। নিহত লিখন নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী ছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মতলেবুর রহমানের ছেলে।
রোববার রাতে লিখন মোটরসাইকেলে ঝিনাইদহ শহরের যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গা সড়কের সাগান্না আমেরচারা এলাকায় একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
একই দিন সকালে ভাত না খেতে চাওয়ায় জান্নাতুল নামে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে মেরে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তার মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরের হাজামপাড়ার। নিহত শিশুটির বাবা বকুল হোসেন এবং মা আলেয়া বেগম। মেয়ে হত্যার অভিযোগে মা আলেয়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। জান্নাতুল বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিল।
একই রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চরবাখরবা গ্রামে বড় ভাইয়ের কুড়ালের আঘাতে ছোট ভাই আব্দুল মালেক (৪২) নিহত হন। নিহত আব্দুল মালেক ওই গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।
একই দিন সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বালির ট্রাকচাপায় দবির উদ্দীন (৭০) নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। রোববার সকালে উপজেলার কাতলাগাড়ী নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দবির উদ্দীন শৈলকুপা উপজেলার বেড়বাড়ীয়া গ্রামের মৃত রোজদার আলীর ছেলে।
এছাড়া শৈলকুপায় ট্রাকের ধাক্কায় বশির আলী (৪৮) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভাটই বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বশির শৈলকুপা উপজেলার দুধসর গ্রামের মকসেদ আলীর ছেলে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জামিরুল ইসলাম (৩৯) নামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সদর উপজেলার আটলিয়া-কুবিরখালী মাঠ এলাকায় খালের ধারে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে তাকে। নিহত জামিরুল ইসলাম মধুহাটি ইউনিয়নের কুবিরখালি গ্রামের মসজিদপাড়ার মজনুর রহমানে ছেলে। তিনি একজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ছিলেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন