ঝিনাইদহে বছরজুড়ে আলোচনায় ‘জঙ্গিবিরোধী অভিযান’

আপডেট: 07:03:59 26/12/2017



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ২০১৭ সালে বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল ‘জঙ্গিবিরোধী অভিযান’।
এই বছর জেলার পাঁচটি ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সময় চালানো এসব অভিযানে দুই ‘জঙ্গি’ নিহত ও বেশ কয়েকজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিটি অভিযানে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ টিম এসে অভিযানে অংশ নেয়। এছাড়া এসব অভিযানের সময় ঝিনাইদহে হাজির হন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ও পুলিশের খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি দিদার আহমেদ।

অপারেশন সাউথ প
২১ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে টিনের একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ। তিনি নওমুসলিম। চার বছর আগে আব্দুল্লাহ সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার বাড়িটি নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারখানা ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। ওই দিন রাতে বাড়িটিতে ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অভিযান চালায়। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ। পরদিন শনিবার সকাল নয়টা থেকে অভিযান আবার শুরু করে। এদিন বিকেল সোয়া তিনটায় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য মতে, অভিযানে রাসায়নিকভর্তি ২০টি কন্টেইনার, তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট, মাইনসদৃশ ৮-১০টি বস্তু, প্রচুর ইলেকট্রিক সার্কিট, ১০০ প্যাকেট লোহার বল, ১৫টি ‘জিহাদি’ বই, একটি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, একটি প্রেসার কুকার বোমা এবং একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

অপারেশন সাবটল স্প্লিট
৭ মে মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারের অদূরে বজরাপুর হঠাৎপাড়ায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী হামলায় তুহিন ও শামীম আহমেদ দুই জঙ্গি নিহত হন বলে পুলিশের দাবি। এ সময় জঙ্গিদের বোমার বিস্ফোরণে সিসিটিসির এডিসি এসএম নাজমুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী এবং মজিবুর রহমান আহত হন বলে সেসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
অভিযানকালে ওই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম উদ্দিন, ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেনসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় বাড়িটি থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছিল।

নেবুতলায় অভিযান
একই দিন ৭ মে রোববার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নেবুতলায় আরো একটি ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পায় পুলিশ। এই গ্রামের সরাফত হোসেনের বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে তারা। পরের দিন সোমবার সকাল দশটা ২৫ মিনিটে অভিযান শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযানে উদ্ধার হয় সাতটি গ্রেনেড ও একটি বোমা। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এগুলো নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ ছাড়া বাড়িটি থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসব অভিযানের আগে বাড়ির মালিক সরাফত হোসেনের দুই ছেলে শামীম ও হাসান এবং শামীমের এক বন্ধুকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক শামীম নব্য জেএমবির সদস্য বলে পুলিশ দাবি করে।

র‌্যাব ক্যাম্পের পাশে অভিযান
এর এক সপ্তাহ পর ১৬ মে মঙ্গলবার ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা গ্রামে আরো দুটি ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থল ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্প থেকে ৫০০ গজ দূরে। পরদিন বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে ওই আস্তানায় দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করে। দুই দিনের অভিযানে ওই দুই আস্তানার পাঁচটি স্থান থেকে দুটি সুইসাইড ভেস্ট, পাঁচটি শক্তিশালী বোমা, ১৮টি ডিনামাইট স্টিক, বোমা তৈরির ১৮৬ পিভিসি সার্কিট, চার ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য ও একটি অ্যান্টিমাইন উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছিল অভিযানকারীদের পক্ষ থেকে। সেখান থেকে সেলিম হোসেন (৪০) ও প্রান্ত বিশ্বাস (১৭) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে র‌্যাব।
বছর শেষে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, ঝিনাইদহে এখন কোনো জঙ্গি নেই। এ জেলায় জঙ্গিরা যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে এ জেলার মানুষ জঙ্গি সম্পর্কে সচেতন।

আরও পড়ুন