ঝিনাইদহে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করলো পুলিশ

আপডেট: 08:31:06 11/02/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ পুলিশের দায়ের করা ‘সরকার উৎখাতের’ চার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ২২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম ইদ্রিস আলীকে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতেই যে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দীন বাদী হয়ে দায়ের করা ১৫ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে বিএনপির সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম ইদ্রিস আলীকে। তিনি এই মামলায় ২১ নম্বর আসামি।
এছাড়া নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা বদিউর রহমান বাদী হয়ে রুজু করা ১৭ নম্বর মামলায়ও মৃত ইদ্রিস আলী ১৭ নম্বর আসামি।
ইদ্রিস আলীর ছেলে আহসান কবীর জানান, তার বাবা ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি স্থানীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুর দুই বছর পর বাবার নাম এহাজারে দেখে তিনি বিস্মিত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রæয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারী পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬/২ ও ২৫ (খ) ধারায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮০-৯০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
৬ ফেব্রæয়ারি ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে একই ধারায় করা মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।
৭ ফেব্রয়ারি সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দীনের দায়ের করা মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছেন।
৮ ফেব্রয়ারি সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা বদিউর রহমানের দায়ের করা মামলায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সবশেষ দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির প্রয়াত এই নেতা ইদ্রিস আলীকে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটিতে ইদ্রিস আলী নামে তাদের কোনো সহ-সভাপতি নেই। এই নামে তাদের কোনো নেতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তবে পুরনো কমিটিতে নলডাঙ্গা গ্রামের মরহুম ইদ্রিস আলী ছিলেন বলে আব্দুল মালেক জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘যার নামে মামলা হয়েছে, তিনি তো গত একবছরের বেশি হলো মারা গেছেন। এ থেকে বোঝা যায় পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতেই এরকম মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা রেকর্ড হওয়া নিয়ে বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা ও ১৫ নম্বর মামলার বাদী আলাউদ্দীন দাবি করেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে ইদ্রিস আলীর নাম এসেছে। ইদ্রিস আলী মৃত হলে বিষয়টি ভুলের কারণে হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ বলেন, ‘পরে আমরা ঠিক করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন