ঝিনাইদহে ‘দুদুলতা’ ধানের বিস্তার

আপডেট: 02:18:54 04/04/2018



img
img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুদু মিয়ার উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল রোগবালাই-সহিষ্ণু দুদুলতা ধানের আবাদ বাড়ছে। গত বছর নিজ উদ্যোগে কৃষক দুদুমিয়া ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেন। সেই বীজের ধান এখন মাঠে মাঠে।
২০১২ সালে সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুদু মিয়া ‘সুবললতা’ ধানের মধ্যে ভিন্ন জাতের ধানের তিনটি গোছা দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে দুই বছর পরিচর্যার পর ওই ধানের বীজ তৈরি করে নিজের জমিতে আবাদ শুরু করেন তিনি। দেখা যায়, উচ্চতায় খাটো হওয়ার কারণে ঝড়ো বাতাসেও সহজে হেলে পড়ে না। পোকা-মাকড়ের আক্রমণও হয় কম। ২০১৭ সালে দুদু মিয়া এই নতুন জাতের ধান চাষ করেন তিন বিঘা জমিতে। ১০০ মণ ধান পান তিনি। এ বছরও ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, নতুন জাতের এ ধানের প্রতিটি শীষে সাড়ে তিনশ’ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত পুষ্ট ধান হচ্ছে; যা অন্যান্য ধানের শীষের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এ ধানের গোছায় চিটা হয় না। তাই ফলন ভালো হচ্ছে। ধান থেকে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখতে অনেকটা বেগুনের বিচির মতো। স্বাদও ভালো। দামও ভালো পাওয়া যায়।
গত বছরের সাফল্যের পর এবছর এই ধানের আবাদ বাড়ানোর জন্য দুদু মিয়া বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ সরবরাহ করেছেন। এই মৌসুমে ওসব জমিতে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক মাসুদ হোসেন, সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত গ্রিন চাষি মো. ইদ্রিস আলী, শৈলকুপা উপজেলার ভাটই গ্রামের সাহেব আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, দুদু মিয়া কয়েক বছর ধরে নতুন ধানের আবাদ করছেন। অন্যদের জমিতে কোনো কারণে ধানের ফলন কম হলেও তার নতুন জাতের ধানে ফলন ভালো হচ্ছে। তাই এ বছর তার কাছ থেকে বীজ ধান নিয়ে আবাদ করছিন তারা। ফলন ভালো হবে বলে আশা তাদের। ধান বর্তমানে থোড় অবস্থায় আছে। পাশের ক্ষেতের অন্য জাতের ধানের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নতুন ধানের জাতের উদ্ভাবক কৃষক দুদু মিয়াকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ধান উৎপাদনে সার, সেচ, আগাছা দমনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমাদের তত্ত¡াবধানে হচ্ছে। ধানটি দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এবারো ফলন গতবারের মতো ভালো হবে। জাতটির চাল চিকন, ভাত খেতে সুস্বাদু, ধানের বাজার মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি, ফলনও ভালো। এ জাতের ধানটি নিকট ভবিষ্যতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
এ ব্যাপারে কৃষক এমদাদুল হক দুদু মিয়া বলেন, ‘গত বছর ধানের ফলন ভালো পেয়েছিলাম। এ ধান ঝিনাইদহের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমি এ বছর এক হাজার কেজি বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক দুদুলতা ধানের আবাদ করছেন। কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করে দেখেছি, আমার কাছ থেকে নেওয়া ধানবীজের ক্ষেতে গাছের অবস্থা অত্যন্ত ভালো। আশা করছি, তারাও আমার মতো ফলন পাবে। অনেক কৃষক ইতিমধ্যে আমার কাছে অগ্রীম বীজের চাহিদা জানিয়েছে। কাজেই এ বছরের তুলনায় আগামী বছর এ ধানের আবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন