ঝুঁকিপূর্ণই থেকে গেল চুটলিয়ার মোড়

আপডেট: 08:25:57 14/09/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের চুটলিয়া মোড়। ঝিনাইদহ শহর থেকে তিন কিলোমিটাটের মতো যশোর সড়ক ধরে আসলেই এ মোড়। খুলনা বিভাগের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের যোগাযোগের একমাত্র সড়কের ঝিনাইদহ অংশের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়টি।
সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ২০১৫ সালে সারা দেশে চিহ্নিত করা হয় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বা ব্ল্যাক স্পট। এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চুটলিয়া মোড়ের বাঁক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়। আর শেষ হয় ২০১৭ সালের ২৮ জুন তারিখে। এসব তথ্য ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের।
সম্প্রতি রাতে মোড়ের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এই অংশের ওপর দিয়েই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে দিনে ও রাতে হাজারো যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে একটি-দুটি করে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়াতে থাকে মালামালবোঝাই ট্রাক। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এক সময় দেখা যায়, অর্ধশতাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এক পর্যায়ে ট্রাকের জটলা এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যে মোড়ের এক পাশ থেকে বোঝা যায় না, যে অন্য পাশ থেকে গাড়ি আসছে কি না।
শুধু রাতেই নয়, দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্তও মোড়ের দুই পাশে ট্রাকের জটলা তৈরি হয়। চুটলিয়া মোড়ের বাঁক প্রশস্ত করার সময় রাস্তার উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছিল। চালকদের গাড়ি চালানোর সুবিধার্থে সেটিও পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত উচ্ছেদ করেন। এতো কিছুর পরও দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত করা যায়নি চুটলিয়া মোড় অংশটিকে।
শরিফুল নামে কুষ্টিয়া জেলার এক ট্রাকচালক বলেন, ‘চুটলিয়া মোড়ে অনেক জায়গা থাকায় এখানে আমরা গাড়ি থামিয়ে রেস্ট করি। পরে চলে যাই। কুষ্টিয়া-যশোর সড়কে এমন ভালো জায়গা না থাকায় এখানেই বেশি দাঁড়াই।’
এমন কথা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ ট্রাক চালকদের।
অন্যদিকে, সড়কটিতে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের চালকরা বলেন, এই মোড়ে আসলেই খুব সমস্যা হয়। সামনের দিকে কিছুই দেখা যায় না। বোঝা যায় না বিপরীত দিক থেকে কোনো যানবাহন আসছে কি না। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দেয়। 
এদিকে, জেলা শহরের ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আরাপপুর অংশে দিনে ও রাতের বেশির ভাগ সময় ট্রাকের জটলা লেগে থাকে। এ জটলা কখনো কখনো ক্যাডেট কলেজ এলাকা ছাড়িয়ে ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্প পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। ইতিপূর্বে এই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।
সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে গভির রাত পর্যন্ত পুলিশ লাইনস্ এলাকা থেকে শুরু করে আলহেরা, বাইপাস সড়ক হয়ে যুব উন্নয়ন পর্যন্ত সরু রাস্তার দুই পাশে প্রচুর ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে অন্য গাড়ি চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের ট্রাফিক ইনসপেক্টর কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, ‘দিনের বেলাতে চুটরিয়া মোড়ে কোন গাড়ি দাঁড়ায় না। আরাপপুর কিংবা বাইপাস এলাকায়ও কোনো ট্রাক থাকে না। তবে রাতে মোড়টিতে ট্রাকের জটলা হলেও আমাদের কিছু করার নেই। কারণ, রাতে সড়ক থেকে যানজট নিরসনে বা ট্রাকের জটলা সরানোর কাজ ট্রাফিক পুলিশ করে না।’
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দিলীপকুমার সরকার জানান, সরু রাস্তার দুই ধারে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় রাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার কাজে যেতে বিলম্ব হয়। বিশেষ করে পুলিশ লাইনস্ এলাকা থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, আরাপপুর এলাকা ও চুটলিয়া মোড়ে এ সমস্যা বেশি হয়। দুই ধারে ট্রাক থাকায় একটি গাড়ি এলে অন্য গাড়ি যেতে পারে না। রাস্তার দুই পাশে ট্রাক দাঁড় করাতে দেওয়া উচিত না।

আরও পড়ুন