ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ঝাঁপার ভাসমান সেতু

আপডেট: 09:57:38 13/04/2019



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর নির্মিত প্রথম ভাসমান সেতুটি কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে সেতুটি উল্টে মাঝ বরাবর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় সেখানে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঝড়বৃষ্টি থামার পর  সেতু নির্মাণ কমিটির সদস্যরা মেরামতে কাজ শুরু করেছেন।
রাত নয়টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সেতু লণ্ডভণ্ড হওয়ায় ঝাঁপা গ্রামের সাথে রাজগঞ্জ বাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজগঞ্জের ভাসমান সেতুটি দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে সেটি উল্টে মাঝ বরাবর লোহার এঙ্গেল ছিড়ে কিছু অংশ বাঁওড়ের মাঝখানে চলে যায়। আর দুই পাশের অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেতুর ওপর থাকা দর্শনার্থীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।
ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও ভাসমান সেতু নির্মাণ কমিটির সদস্য লিটন হোসেন জানান, ঝড় থামার পরপরই সেটি সংস্কারে ১৫-২০জন সদস্য কাজে লেগে গেছেন। সেতুর বিভিন্ন অংশে লোহার ঝালাই খুলে গেছে। সকালে সেতু মেরামতে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, ঝাঁপাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে গত বছর গ্রামের ৭০-৭৫জন নিজেদের অর্থায়নে ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নেন। সেই লক্ষ্যে তারা ঝাঁপা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনও গড়ে তোলেন। এরপর নিজেরা ফান্ড তৈরি করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। সেই অর্থে আটশ’ মণ লোহার এঙ্গেল, ২৫০টি পাত ও ৮৩৯টি প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে বাঁওড়ের উপর এক হাজার ফুট লম্বা ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

আরও পড়ুন