টাকা লুটে অভিযুক্ত ডিবির পাঁচ অফিসার সাসপেন্ড

আপডেট: 10:43:53 13/07/2017



img

খুলনা অফিস : গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম ডুমুরিয়ার আঠারো মাইলে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৭৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে নামেন পুলিশ কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মো. সজীব খান মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করেন। রিপোর্টে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের পরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা ডিবিতে কর্মরত দুইজন এসআই এবং তিনজন এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এছাড়া ওই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগেই তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
তবে এ বিষয়ে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাস আলী মুখ খুলতে রাজি হননি। ওসি আক্কাস এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।
সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলাম, এসআই আবু সাইদ, এএসআই শাহাজুল ইসলাম, এএসআই মিকাইল হোসেন এবং এএসআই কামাল হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার তাদের ডিবি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
ডিবির ওই কর্মকর্তারা ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রামের যাশের আলী গাজীর ছেলে আব্দুস সালাম গাজীর আঠার মাইল কলেজ রোডের ‘আব্দুল্লাহ ফুড’ নামে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযানের নামে হাজির হয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় ফুঁসে ওঠেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনা তদন্ত করেন।
এর আগেও এএসআই শাহাজুল ইসলামসহ জেলা ডিবির কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়ার শাহাপুর বাজারে দুই যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন