টানা ৬০ বছর গান করে চলেছেন মতলেব ফকির

আপডেট: 01:36:05 25/11/2016



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : প্রায় ৬০ বছর ধরে মঞ্চে গান গেয়ে চলেছেন মতলেব ফকির। ভাবগান, লালনগীতি, ধুয়াজারি ও কবিগান করেন তিনি। এখন তার বয়স ৮০। এই বয়সেও মঞ্চে গান করেন তিনি।
কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম মানতেই হয়। শরীর আর কুলায় না। ফলে বড্ড অনটনে দিন গুজরান করতে বাধ্য হচ্ছেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী।
১৯৭২ সালে কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি গ্রামে গুরু মুনছুর মওলানার বাড়িতে কবিগান গেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন মতলেব ফকির। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারে প্রথম মঞ্চে গান করতে ওঠেন। এরপর দ্বিতীয় গান করেন শৈলকুপার নিত্যানন্দপুর গ্রামে। সেখানে তিনি এক নাগাড়ে সাতদিন ধরে কবিগান করেন।
মতলেব ফকির ১৯৭৪ সালে প্রথম বিটিভিতে গান করেন। এখন তিনি খুলনা বেতারের শিল্পী। তার কণ্ঠে বিকশিত হয়েছে মরমী কবি পাগলাকানাইয়ের মর্মবাণী। তিনি সবচে’ বেশি গেয়েছেন পাগলাকানাইয়ের গান। পাগলাকানাইসহ ঝিনাইদহের ৫৯ জন সাধকের তাত্ত্বিক গান রয়েছে মতলেব ফকিরের ভা-ারে।
মতলেব ফকিরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাই গান সংরক্ষণ করতে পারেন না।
এই বৃদ্ধ বয়সেও মতলেব ফকির সমানতালে গান গেয়ে চলেছেন। তিনি যশোর জেলার খাজুরা এলাকার পাশে লেবুতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ বিশ্বাস ও মায়ের নাম আনোয়ারা খাতুন। তিনি বড় হয়েছেন নানাবাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পানামি গ্রামে। ১৯৫৬ সাল থেকে তিনি গান করছেন বলে জানান।
মতলেব ফকির লালন সাঁই, পাগলাকানাই, কবি গোলাম মোস্তফা, দুদ্দু শাহ, পাঞ্জু শাহ, বেহাল শাহ, বাহাদুর বিশ্বাস, তমিজ উদ্দীন, জয়নাল বয়াতি, বিজয় সরকার, কেপি বসু, লংকেশ্বর, নিতাই, বড় গৌর, আদিলুদ্দিন, আয়নাল, ইসারত ফকির, বজনাথ গোসাঁই, শাকের শাহ, শীতল শাহ, জহর উদ্দীন, মিয়াজান শাহ, কালো কোকিল, কালাচাঁদ, ফুলবাঁশ, নছের শাহ, হাওড়িয়া গোসাঁই, অক্ষয়, বলরাম, যোগেশ্বরী, শরৎ, মফিজ উদ্দীন, শামসদ্দিন, রজব আলী, ক্ষ্যাপাকান্ত, রাজলক্ষ্মী, বলরাম শর্মা, যাদু বিন্দু, গুরুচান, হাতেম শাহ, খোদাবক্স শাহ, শুকচান ও অমূল্য শাহসহ বহু সাধকের গান গেয়েছেন মঞ্চে।
তিনি জানান, ১৮ বছর নদীর পাড়ে ছিন্নমূলের মতো জীবন কাটিয়েছেন। এরপর ঝিনাইদহ শহরের বশির মাজমাদারের বাড়ির পেছনে জঙ্গল পরিষ্কার করে ৪০ বছর ধরে বসবাস করেছেন। তার জীবন যাযাবরের মতো। জীবন সায়াহ্নে তার একটাই চাওয়া- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
এখন তিনি যৎসামান্য শিল্পী সম্মানী পান। তাতে সংসার চলে না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ঘরে আগুন লাগায় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রমাণাদি পুড়ে যায়। সে কারণে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি।
জীবনভর গান করে মানুষের মনের চাহিদা মিটিয়েছেন মতলেব ফকির। একন তার পেটের খোরাক জোগাড় করা দায় হয়ে পড়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে কাটছে মতলেব ফকিরের দিন।
গুণী এই গায়ক এখন ঝিনাইদহ জজকোর্টের পেছনে গয়াসপুর গ্রামে বসবাস করেন। মতলেব ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ ০১৭০৩২৯৩৪৩৫।

আরও পড়ুন