টি-টোয়েন্টিতে শোচনীয় হার

আপডেট: 12:42:24 01/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : প্রথম ওভারেই আউট দুই ওপেনার। পরের দুই ব্যাটসম্যানও নেই ষষ্ঠ ওভারে। একাদশ ওভারে একশ ছুঁয়েও ধুঁকতে ধুঁকতে থমকে যাওয়া দেড়শর নিচে। ব্যাটিং উইকেটে মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং। পরে বৃষ্টিতে আরো সহজ হয়ে যাওয়া সমীকরণে সহজেই জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেন্ট কিটসে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে ২০ ওভারে বাংলাদেশ করতে পেরেছিল ১৪৩ রান। বৃ্ষ্টির বাধার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস আইনে ক্যারিবিয়ানদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১ ওভারে ৯১। জিতে যায় তারা ১১ বল বাকি রেখেই।
গত ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ওয়ার্নার পার্কের গড় স্কোর ছিল ১৭৯। এদিনও উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ। কিন্তু একের পর এক ব্যাটসম্যানের আত্মঘাতী শট ডেকে আনে বাংলাদেশের বিপদ।
মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে তবু একাদশ ওভারেই ১০০ ছুঁয়েছিল দল। হাতছানি ছিল লড়াই করার মতো রানে পৌঁছানোর। কিন্তু কেসরিক উইলিয়ামসের ৪ উইকেটে পরের পথটুকুতে আরো ধুঁকলো দল। ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায় ওখানেই।
বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের প্রথম ওভারেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লেখান দুই ওপেনার।
অ্যাশলি নার্সের অফ স্পিন দিয়ে প্রথমবার বোলিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাসতে থাকে সাফল্যের ভেলায়। ম্যাচের প্রথম বলেই বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে অনায়াসে স্টাম্পড তামিম ইকবাল।
এই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রথম বলেই স্টাম্পড হলেন কোনো ব্যাটসম্যান।
তিনে নামা লিটন দাস শুরু করেছিলেন প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে। পরের বলে তার সিঙ্গেলে স্ট্রাইক পেলেন সৌম্য সরকার। সামনে খেলার বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে হলেন বোল্ড।
টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম কোনো দলের দুই ওপেনারই আউট হলেন মুখোমুখি প্রথম বলে।
লিটন ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে সেই ধাক্কা অনেকটাই সামাল দিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে স্যামুয়েল বদ্রিকে টানা দুটি চার মারেন লিটন। পরের ওভারে আন্দ্রে রাসেলের চার বলে তিন বাউন্ডারি মারেন সাকিব।
কিন্তু এই দুজনও কাজ অসমাপ্ত রেখে ফেরেন জোড় বেঁধে। ষষ্ঠ ওভারে কিমো পলের শর্ট বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২১ বলে ২৪ রান করা লিটন। পরের বলে আবারো শর্ট বলেই আপার কাট খেলে সীমানায় কেসরিক উইলিয়ামসের দারুণ ক্যাচের শিকার সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়ক করেছেন ১০ বলে ১৯।
সেখান থেকেই মাহমুদউল্লাহর চোখধাঁধানো প্রতি আক্রমণ। জোড়া উইকেটের পরের ওভারেই চমকে দেন বদ্রির টানা তিন বলে দুটি বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়। পরের ওভারে দুর্দান্ত টাইমিংয়ে কিমো পলকে আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে।
আরেক পাশে মুশফিকও শুরু করেছিলেন দারুণ। গড়ে উঠছিল জুটি। ২৪ বলে ৪৭ রানের দারুণ সম্ভাবনাময় সেই জুটির অপমৃত্যু আবারো আপার কাট শটে।
জায়গা বানিয়ে থার্ডম্যান দিয়ে একটি চার মেরেছিলেন মুশফিক। তার জন্য তাই পাতা হয় ফাঁদ, থার্ডম্যান ফিল্ডার একটু সোজাসুজি রেখে শর্ট বল করেন উইলিয়মস। মুশফিক ফাঁদে পা দেন পরের বলেই সেখানে ক্যাচ দিয়ে।
বাকি সময়ে দল এগিয়েছে খুঁড়িয়ে। ইনিংস গড়ার পর্যাপ্ত সময় থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আরিফুল হক। করেছেন ১৮ বলে ১৫।
দল তাকিয়ে তখন মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। প্রয়োজন ছিল তার শেষ পর্যন্ত থাকা। কিন্তু বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে উইলিয়ামসের স্লোয়ারে যখন বোল্ড হলেন, ইনিংসের বাকি তখনও ২৩ বল। তার ২৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটা হয়ে থাকল অপূর্ণতার গল্প।
বাংলাদেশের ইনিংসটিও তেমনই। নিখাদ ব্যাটিং উইকেটে রান হতে পারত আরো অনেক বেশি।
প্রথম ওভারে দুই উইকেটের পর আর বোলিং পাননি নার্স। পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে সেটির প্রয়োজনই হয়নি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেট নিয়েছেন উইলিয়ামস।
ম্যাচের মাঝবিরতিতে নামা বৃষ্টি কমিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের দৈর্ঘ। ক্যারিবিয়ানদের বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যানের সামনে ৬৬ বলে ৯১ রানের লক্ষ্য ছিল অনেকটাই সহজ।
যদিও খানিকটা আশার আলো ঝিলিক দিয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে নেন ডাবল উইকেট মেডেন। ফিরিয়ে দেন দুই বিপজ্জনক ওপেনারকে।
কিন্তু জিততে একটুও বেগ পেতে হয়নি ক্যারিবিয়ানদের। মুস্তাফিজের পরের ওভারেই ১৮ রান নেন আন্দ্রে রাসেল। একটিতে বল পাঠিয়ে দেন স্টেডিয়ামের বাইরে। ঝড় তোলেন মারলন স্যামুয়েলসও।
দুটি করে চার ও ছক্কায় স্যামুয়েলস করেছেন ১৩ বলে ২৬। তিনে নেমে ২১ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচ সেরা রাসেল।
এই ম্যাচে শেষ হলো বাংলাদেশের ক্যারিবিয়ান অভিযান। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ও সোমবার সকালে।
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ : ৩ ম্যাচে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ : আন্দ্রে রাসেল
সূত্র : বিডিনিউজ