ট্রাইব্রেকারে স্বাগতিকদের কাঁদালো ক্রোয়েশিয়া

আপডেট: 09:28:48 11/07/2018



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে গোল করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ভাগ্য পরীক্ষায় গড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচটি জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া।
নির্ধারিত সময়ে ছিল ১-১ সমতা। অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোর ২-২। টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়া জিতেছে ৪-৩ গোলে।
দেনিস চেরিশেভের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। আন্দ্রেই ক্রামারিচের হেডে খানিক বাদেই সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে দুর্দান্ত হেডে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন দোমাগোই ভিদা। কিন্তু হেডেই সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেন মারিও ফের্নান্দেসই। পেনাল্টি শুট আউটে আকিনফিভ একটি শট ঠেকিয়েছিলেন, সুবাসিচও ঠেকালেন একটি। কিন্তু নায়ক থেকে ভিলেন ফের্নান্দেস। মারেন পোস্টের বাইরে।
আগামী বুধবার মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়াম সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া।
সোচির ফিশৎ স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ আর রাশিয়ার প্রতিআক্রমণে ম্যাচের শুরু থেকেই ছড়ায় রোমাঞ্চ। শেষ ষোলোতে দুই দলের নায়ক দুই গোলরক্ষককেই থাকতে হয় ব্যস্ত।
তবে ৩১তম মিনিটে দেনিস চেরিশেভ যে শট নিলেন তা চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না দেনিস সুবাসিচের। মাঝমাঠ থেকে আর্তেম জুবাকে বল বাড়িয়ে সামনে এগোন চেরিশেভ, বল ফেরত পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে উঁচু শটে ওপরের বাঁ কোণা দিয়ে জালে জড়ান। বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলে উচ্ছ্বাসে মাতান গ্যালারি।
জবাব দিতে বেশি দেরি করেনি ক্রোয়েশিয়া। ৩৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে মারিও মানজুকিচের দারুণ ক্রসে হেডে বল জালে পাঠান আন্দ্রেই ক্রামারিচ।
বিরতির পর লুকা মদ্রিচের পায়ে সূচনা হওয়া একের পর এক আক্রমণ রুখে যায় রাশিয়া। পক্ষে আসে ভাগ্যও। ৫৯তম মিনিটে ডি-বক্সের জটলায় বল পেয়ে ইভান পেরিসিচের নেওয়া নিচু শট গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভকে ফাঁকি দিলেও পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক খেলে পাল্টা আক্রমণে জোর দেওয়া রাশিয়া প্রথম ভালো সুযোগটা পায় ৭২তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা ফেদর স্মোলভের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয় স্বাগতিকদের। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; অতিরিক্ত সময়ের দশম মিনিটে কর্নারে দোমাগোই ভিদার লাফিয়ে ওঠা হেডে বল কয়েকজন ডিফেন্ডার আর আকিনফিভকে এড়িয়ে জড়ায় জালে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়াকে রোখা যায়নি। ১১৫তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে লাফিয়ে হেডে সমতা ফেরান মারিও ফের্নান্দেস। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
প্রথম শট নিতে আসা ফেদর স্মলভের শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। ব্রজোভিচ ফাঁকি দেন আকিনফিভকে।
রাশিয়ার দ্বিতীয় শট নিতে এসে ভুল করেননি আলান দ্রাগোয়েভ। এবার আকিনফিভ ফিরিয়ে দেন কোভাসিচের শট।
মারিও ফের্নান্দেস বল মারেন পোস্টের বাইরে। লুকা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন।
সের্গেই ইগনাশেভিচ রাশিয়ার চতুর্থ শটে গোল করেন। ভিদাও ভুল করেনি।
দালের কুজিয়ায়েভ টিকিয়ে রাখেন স্বাগতিকদের আশা। রাকিতিচ বল জালে পাঠিয়ে ভাঙেন স্বাগতিকদের স্বপ্ন।
১৯৯৮ সালে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকে সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছিল ক্রোয়াটরা। ২০ বছর পর আবার ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় সেরা চারে উঠলো ক্রোয়েশিয়া।
সূত্র : বিডিনিউজ