ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক, তিনজন সাসপেন্ড

আপডেট: 08:22:03 25/11/2017



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : খুলনা থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে পাকশী থেকে রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন দুটিকে উদ্ধার করলে দীর্ঘ নয় ঘণ্টা পর এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে সকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হল্ট স্টেশনে মালবাহী ট্রেন ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যসহ তিনজন আহত হন। এ সংঘর্ষের পর খুলনা-ঢাকা, খুলনা- রাজশাহী, খুলনা-চিলাহাটি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দর্শনা হল্ট স্টেশন মাস্টার হাফিজ জানান, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রেন দর্শনা স্টেশনের রেলইয়ার্ডে ঢোকার আগে ভুল সিগন্যালিংয়ের কারণে বাম দিকে বাঁক নিয়ে দর্শনা হল্ট স্টেশনে ঢুকে পড়ে। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রেলের দুটি ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দর্শনা জংশনে সে সময় কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার আব্দুল খালেক জানান, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রেন দর্শনা রেলস্টেশনে রেলইয়ার্ডে ঢোকার আগে সিগন্যাল উপেক্ষা করে দর্শনা হল্ট স্টেশনে ঢুুকে পড়ে। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা তেল ট্যাঙ্কারবাহী ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রেলের দুটি ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় মালবাহী ট্রেনের চালক আক্তারুজ্জামান (৩৮), কর্তব্যরত হাবিলদার মতিউর (৩২), সিপাহী সরওয়ার (৩৩) আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, এ দুর্ঘটনায় রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ রিয়াদ আহমেদ, টেলিকম প্রকৌশলী আবু হেনা, যন্ত্র এবং লোকো প্রকৌশলী শেখ মো. হাসানুজ্জামান।
এ কমিটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাময়িকভাবে তিনজনকে বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করেছে। এরা হলেন, দুর্ঘটনাকবলিত মালবাহী ট্রেনটির চালক আক্তারুজ্জামান, সহকারী চালক মো. রাসেল ও পরিচালক (গার্ড) কামরুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসী জানান, আপাতত তিনজনকে সাময়িক বরাখাস্ত করা হয়েছে। এরপর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।