ডা. সুমনের বাড়িতে মাতম

আপডেট: 09:26:35 10/01/2017



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার বেঙ্গা বেরইল গ্রামে ডা. সুমন সিকদারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সুমনের মা কল্পনারানি সিকদার, একমাত্র বোন অনার্সের ছাত্রী সন্ধ্যারানি বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রতিবেশী ও স্বজনদের বিলাপ এলাকার পরিবেশ ভারি করে তুলেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে পাশের দহকুলা গ্রামের শ্মশানে সুমনের লাশ ধর্মীয় নিয়মে সমাহিত করা হয়। এসময় সেখানে আত্মীয়-স্বজনসহ বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে মনুলিয়া গ্রামে মামাবাড়িতে সুমনের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অসুস্থ মামা অরবিন্দ বিশ্বাসকে শেষ বারের মতো দেখাতে। স্কুলশিক্ষক অরবিন্দ বিশ্বাসের বাড়িতে থেকে তার তত্ত্বাবধানেই মেধাবী সুমন এসএসসি পাস করেছিলেন।
সুমনের কাকা সমরেন সিকদার জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে সোমবার দিনগত রাত ৪টার দিকে লাশ নিয়ে বেঙ্গাবেরইল গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন তারা। এখন পর্যন্ত সুমনের মৃত্যুর কোনো কারণ অনুমান করতে পারছেন না কেউই। সুমনের কাকা মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরজিৎ সিকদার জানান, খুবই নিরীহ প্রকৃতির ডা. সুমনের সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব-বিরোধ ছিল বলে জানা নেই। ৩৩ বিসিএস (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার পদে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ডা. সুমন। এরই মাঝে গত ২ জানুয়ারি অফিস থেকে ফিরে বিকালে মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় বন্ধুদের মেসে এসেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই ওই মেসে মোবাইল ফোন ফেলে রেখে বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরদিন ৩ জানুয়ারী বিকালে সুমনের বাবা সুকুমার সিকদার সুমন নিখোঁজের ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন।
জিডির তদন্তকারী মাগুরা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, ৩ জানুয়ারি ঢাকার শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের চার তলার সিঁড়ির পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে লাশের ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে ডা. সুমনের পরিচয় পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী ৯ জানুয়ারী সোমবার শাহবাগ থানা পুলিশ মাগুরা থানায় খবর দিলে স্বজনরা সে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে ডা. সুমনের লাশ নিয়ে আসেন।
মাগুরা থানার অফিসার ইনচার্জ আজমল হুদা বলেন, ময়নাদতন্তের রিপোর্টের পর এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা জানা যাবে। তারপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন