ডিএসসি পুরস্কারে নেই বাংলাদেশি লেখক

আপডেট: 02:53:26 17/08/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ও এসব দেশের বংশোদ্ভূত লেখকদের ইংরেজি ভাষায় লেখা বা অনুবাদ করা সাহিত্যের সম্মানজনক ডিএসসি পুরস্কারের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরে ‘ডিএসসি প্রাইজ ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচার’ শীর্ষক এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ১৩ জন লেখক। এর মধ্যে বাংলাদেশের কেউ নেই। আছেন ভারতীয় লেখক সাত জন, পাকিস্তানি তিন জন, শ্রীলঙ্কান দুই জন এবং একজন হলেন ভারতে বসবাসকারী মার্কিন লেখক।
জুরি বোর্ড এই তালিকা থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে এক অনুষ্ঠানে পাঁচ বা ছয় জন লেখকের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করবেন। পরে সেখান থেকে নির্বাচিত হবেন চূড়ান্ত বিজয়ী লেখক। আগামী ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা লিটারারি ফেস্টিভ্যালে এই বিজয়ী লেখকের নাম ঘোষণা করা হবে।
চলতি বছরের ডিএসসি পুরস্কারের জুরি বোর্ডের চেয়ার, প্রথিতযশা নারীবাদী লেখক ও প্রকাশক রিতু মেনন গত ১০ আগস্ট নয়াদিল্লির অক্সফোর্ড বুকস্টোরে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের এই পুরস্কারের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেন। এসময় প্রকাশক, লেখকসহ সাহিত্যপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কারের জন্য যে ক’টি উপন্যাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর চরিত্র ও গল্পবিন্যাস এবং ভৌগলিক কাঠামোতে এক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উপস্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জীবনযাপনকে তুলে ধরা হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া ১৩ উপন্যাসের মধ্যে তিনটি হচ্ছে নিজ নিজ লেখকদের প্রথম উপন্যাস। অন্যদিকে তামিল ও মালায়লাম ভাষায় লেখা দুইটি উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদও স্থান পেয়েছে এই তালিকায়। আবার, কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থানকারী লেখকই নন, এই অঞ্চলের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন লেখকও মনোনীত হয়েছেন; যারা এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষ করেছেন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।
এ বছর ডিএসসি পুরস্কারের জন্য ৬০টির বেশি উপন্যাস জমা পড়েছিল। সেগুলো বিচারের জন্য কাজ করেছেন পাঁচ জনের জুরি প্যানেল। তাদের বিচারে মনোনীত ১৭ জন লেখক হলেন— অঞ্জলি জোসেফ (দ্য লিভিং), আনোশ ইরানি (দ্য পার্সেল), অনুক অরুদপ্রাগাজম (দ্য স্টোরি অব আ ব্রিফ ম্যারেজ), অরবিন্দ আদিগা (সিলেকশন ডে), অশোক ফেরে (দ্য সিজলেস চ্যাটার অব ডেমনস), হির্শ সোয়াহনি (সাউথ হ্যাভেন), করন মহাজন (দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল বম্বস), কে আর মীরা (দ্য পয়জন অব লাভ), ওমর শহীদ হামিদ (দ্য পার্টি ওয়ার্কার), পেরুমাল মুরুগান (পায়ার), সারভাত হাসিন (দ্য ওয়াইড নাইট), শাহবানু বিলগ্রামি (দোজ চিলড্রেন) এবং স্টিফেন অলটার (ইন দ্য জাংগলস অব দ্য নাইট)।
অনুষ্ঠানে মনোনীত লেখকদের তালিকা ঘোষণার সময় রিতু মেনন বলেন, ‘এই পুরস্কারের জন্য ১৩ জন অসাধারণ লেখকের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার পক্ষ থেকে বলব, এ বছর এই পুরস্কারের জন্য জমা হওয়া উপন্যাসগুলো পড়ার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক। বিচারক হিসেবে আমরা কয়েকটি উপন্যাসের ব্যতিক্রমধর্মী গুণে মুগ্ধ হয়েছি। কয়েকটি উপন্যাসের উপাদান ও সাহিত্যমানে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ছিল অসাধারণ। এসব উপন্যাসের চরিত্রগুলোর পরিণতবোধ ও মানবিকতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জটিল ও সমস্যাসংকুল পরিস্থিতিগুলোকেও যেভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখকরা, তাও অন্যদের থেকে আলাদা। ইতিহাস প্রসঙ্গে লেখকদের প্রখর রসবোধ ও উপস্থাপনের বৈচিত্র্যময় ক্ষমতা ছিল সম্মোহিত করার মতো। এসব লেখকরা বোধ ও ধারণায় বিশ্বজনীন হলেও তাদের কণ্ঠস্বর নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে।’
ডিএসসি পুরস্কারের অন্যতম উদ্যোক্তা সুরিনা নারুলা বলেন, ‘বিচারকদের ধন্যবাদ জানাই যে, তারা পুরস্কারের জন্য জমা হওয়া সবগুলো উপন্যাস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছেন এবং নিজেদের বিজ্ঞ বিবেচনা দিয়ে ১৩ জন লেখকের মনোনয়ন তালিকা তৈরি করেছেন। আমি মনে করি, মনোনয়ন পাওয়া লেখকদের সংশ্লিষ্ট উপন্যাসগুলোর প্রতিটিই অবশ্যপাঠ্য। কারণ এই উপন্যাসগুলোতে দক্ষিণ এশীয় জীবন চমৎকারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই তালিকায় স্বনামধন্য ঔপন্যাসিকদের পাশাপাশি নবীন ঔপন্যাসিকরাও স্থান পাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবেও অনেক খুশি। তারা প্রত্যেকেই দক্ষিণ এশীয় সাহিত্যে ছাপ ফেলছেন। সপ্তম বছরে পা রাখা এই সাহিত্য পুরস্কার বৈশ্বিক সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যকে উপস্থাপন করা লেখকদের তুলে আনতে সফল বলেই আমরা মনে করি। এ বছর এই পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত ১৩ জন লেখকের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই।’
এ বছর ডিএসসি পুরস্কারের জুরি বোর্ডে রিতু মেনন ছাড়াও ছিলেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফের এমিরেটাস ভ্যালেনটাইম কানিংহাম; যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের লেখক, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক স্টিভেন বার্নস্টেইন; সমাজ, সংস্কৃতি ও নারীবাদ বিষয়ক লন্ডনে বসবাসরত প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক ইয়াসমিন আলিভাই-ব্রাউন এবং শ্রীলঙ্কার ইউনিভার্সিটি অব পেরাদেনিয়ার ইংরেজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সিনাথ ওয়ালটার পেরেরা।
এর আগে অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে ডিএসসি পুরস্কার পাওয়া ঝুম্পা লাহিড়ির ‘লোল্যান্ড’ ও ২০১৬ সালে একই পুরস্কার পাওয়া অনুরাধা রায়ের ‘স্লিপিং অন জুপিটার’ বই থেকে পাঠ করেন থিয়েটার শিল্পী অরুণ দাস।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন