ডুবে যাওয়া ক্ষেতে পুঁইশাকের বাম্পার ফলন

আপডেট: 01:55:19 23/11/2016



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামের গরিব চাষি গোলাম রব্বানী (৫০)। তিন বছর আগেও যিনি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। মাঠে অবশ্য তার বিঘা তিনেক জমি রয়েছে। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি ওই জমিতে ধানসহ প্রথাগত চাষ করেন তিনি। অন্যদের দেখাদেখি চলতি বছরের মাঝামাঝি মাত্র ছয় কাঠা জমিতে পুঁইশাকের চাষ করে এখন তিনি এলাকায় আলোচিত হয়ে উঠেছেন। স্বপ্ন দেখছেন সম্মাননা পাওয়ার।
গোলাম রব্বানীর মূল লক্ষ্য পুঁইশাকের ফল মিচুড়ি উৎপাদন। পুঁইশাকের শাখা লাগানোর পরই এই বছরের মাঝামাঝি দুইদফা ভারি বর্ষণে তার ক্ষেতে ২-৩ ফুট পানি জমে। মাচা তৈরিসহ চাষে বেশ টাকা খরচ করার পর তা ডুবে যাওয়ায় একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েন রব্বানী। পানিতে ডোবার পর কোনো রকম ডগা দেখা যাচ্ছিল। এ কারণে ফলন হবে না বলেই ধরে নিয়েছিলেন তিনি।
কয়েকদিন পর পানি সরে যাওয়ায় ডুবে যাওয়া ফলনের আশায় নামমাত্র ইউরিয়া ছড়িয়ে দেন। কয়েকদিনের মধ্যেই পুঁইশাকের গাছ দ্রুত বাড়তে থাকে। বড় বড় সবুজ পাতায় পুরো জমি ভরে যায়। রব্বানীর ডুবে যাওয়া ক্ষেতের পুঁইশাক দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে যান।
গোলাম রব্বানীর মতো কাশিপুর গ্রামের আরো প্রায় দশ জন চাষি পুঁইশাকের চাষ করেছেন। রব্বানীর তুলনায় অন্যদের জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় তাদের জমিতে পানি জমেনি। ফলন বরাবরের মতো ভালো হয়েছে। চাষটি লাভজনক হওয়ায় তারা গত ৩-৪ বছর ধরে ৪-৬ কাঠা জমিতে পুঁইশাকের চাষ করে আসছেন। তবে এবছর ডুবে গেলেও মাঠের মধ্যে সেরা পুঁইশাক ফলেছে রব্বানীর জমিতে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন রব্বানীর পুঁইশাকের ক্ষেতে গেলে তিনি জানান, তিন বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। তবে পুঁইশাক এবারই প্রথম। এখন প্রতি পাঁচ দিন পরপর মিচুড়ি তুলছেন। এই পর্যন্ত দুই চালানে প্রায় এক মণ মিচুড়ি বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজির দাম ৬৫-৭০ টাকা। ইতিমধ্যে খরচ প্রায় উঠে গেছে। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত মিচুড়ি বিক্রি হবে। তাতে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রব্বানীর ফলনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাশের কৃষক আকবর আলী। তিনি বলেন, 'নতুন জমি হওয়ায় ডুবে গেলেও রব্বানীর ফলন খুব ভালো হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় গত ৪-৫ বছর ধরে তিনি ছয় কাঠা জমিতে পুঁইশাকের চাষ করছেন।'
আকবর জানান, আগে তাদের এদিকে এই চাষ হতো না। অন্য এলাকা থেকে দেখে তিনি ও একই গ্রামের আব্দুল মমিন সর্বপ্রথম পুঁইশাক চাষ শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই এই সবজি চাষ করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক দুলাল সরকার বলেন, 'বর্ষার সময় রব্বানীর জমিতে কোমরসমান পানি জমেছিল। সৃষ্টিকর্তা তাকে টেনে তুলেছেন।' এখন রব্বানীর ক্ষেতটি সবার ওপরে বলেও তিনি মত দেন।
এদিকে, সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে রাস্তার পাশে সুন্দর পুঁইশাকের চাষ দেখে মুগ্ধ হয়ে তা ঘুরে দেখেন ইউএনও কামরুল হাসান। রব্বানীর মুখে সব শুনে ইউএনও তার প্রশংসা করেন।
পাশাপাশি রব্বানী যাতে পুরস্কার পান, সেই ব্যাপারে তিনি কৃষি অধিদপ্তরকে সুপারিশ করবেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন