ডেঙ্গু পরীক্ষা হচ্ছে না মণিরামপুর হাসপাতালে

আপডেট: 07:24:50 18/09/2019



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, কিট সংকট দেখিয়ে এই হাসপাতালে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মণিরামপুর হাসপাতালে সেবা না পেয়ে ১১ জন রোগীকে বাইরের ক্লিনিক থেকে তাদের স্বজনরা পরীক্ষা করিয়েছেন।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিট সংকটের কথা জানিয়ে পাঁচজন রোগীকে ফেরত পাঠানোর বিষষটি স্বীকার করেছেন। আর সিভিল সার্জন বলছেন, কীট সংকট দেখিয়ে রোগী ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।
এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। দেরিতে হাসপাতালে এলে ‘সময় নেই’ বলে পরীক্ষা না করে ফেরত দেওয়ার অভিযোগও করছেন রোগীরা।
উপজেলার ভরতপুর গ্রামের বাবুল আকতার নামে এক ব্যক্তি জানান, বুধবার সকালে তিনি জ্বরে আক্রান্ত সালমা ও জান্নাতি নামে দুই শিশুকে মণিরামপুর হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসক কাদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে ল্যাব সহকারী আনিস জামানের কাছে পাঠান। তখন ‘কিট নেই’ বলে ওই দুই রোগীকে ফেরত দেন আনিস। পরে আনিসের পরিচালিত হাসপাতালের বাইরে ‘দি প্যাথ’ নামে একটি ক্লিনিক থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ওই দুই রোগীর পরীক্ষা করানো হয়।
ভরতপুর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, হাসপাতালে সুযোগ না পেয়ে গত পাঁচ দিনে দুই বার তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয় ‘দি প্যাথ’ থেকে। মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে গেলে ‘রোগীর অবস্থা ভালো’ বলে বাড়ি ফেরত দেন চিকিৎসক। বুধবার সকালে নার্গিস বেগমের প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি কয়েকবার বমি হয়। তখন তাকে হাসপাতালে আনলে ভর্তি নেন ডাক্তাররা।
মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সহকারী আনিস জামান বলেন, আজ সাত জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়েছে। আর কিট না থাকায় পাঁচজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, অর্থ সংকট রয়েছে। তাছাড়া সবসময় কিটও পাওয়া যায় না। আজ ১০০ কিট কেনার জন্য আনিসকে বলা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সকালে আকস্মিক মণিরামপুর হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায়। কিট সংকট দেখে তিনি হাসপাতাল প্রধানের ওপর বেশ চটেছেন বলে জানা গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট কেনার খরচ সরকার বহন করে। দুই দিন আগে সব টিএইচওদের নিয়ে ডিজি স্যার ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। সেখানে অর্থ ছাড়ের কথা বলেছেন তিনি। টাকা পাওয়ার আগে কিট সংকট হলে সব টিএইচও ব্যক্তিগত খরচে কিট সংগ্রহ করবেন বলে কথা দিয়েছেন। মণিরামপুর হাসপাতালে কিট সংকটের বিষয়ে টিএইচও-কে ধরা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত,মাঝে কিছুটা কমলেও মণিরামপুরে আবার বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত দেড় মাসে ৬০০ রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে মণিরামপুর হাসপাতালে। তার মধ্যে ৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। এই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে মণিরামপুরের দুই শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন