তালগাছপ্রেমী চিত্তরঞ্জন

আপডেট: 01:22:24 10/09/2017



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : অভয়নগরে তালগাছপ্রেমী চিত্তরঞ্জন দাস ৫০ হাজার তালের বীজ (আঁটি) রোপণ করেছেন।
বাজ পড়া ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক উপজেলায় তাল গাছ রোপণের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, চিত্তরঞ্জন তা আনন্দচিত্তে গ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের আগেই অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের গরিব কৃষক চিত্তরঞ্জন দাস (৫৮) গত চার বছর ধরে এলাকায় তালের বীজ রোপণ করে আসছেন। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও পতিত জমিতে প্রায় ৫০ হাজার তালের বীজ রোপণ করেছেন। চিত্তরঞ্জন দাসের এ কাজকে সানন্দে গ্রহণ করেছেন। উপজেলা বন ও কৃষি কর্মকর্তারা তার কার্যক্রম দেখেছেন।
চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘আমি কৃষি কাজ করি। একই সঙ্গে তালগাছের ব্যবসা করি। দেশ থেকে তালগাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তালগাছের কোনো কিছু ফেল না নয়। তালের রস-গুড়, কচি তালের শাঁস, তালের পিঠা, তালপাতার পাখা, তালের মজবুত খুঁটিসহ এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।’
বাজ পড়া ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী তালগাছ লাগানোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, চিত্তরঞ্জন দাস তাতে মহাখুশি। তার রোপিত তালবাগান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করবেন তিনি বলে জানিয়েছেন চিত্তরঞ্জন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই আড়াই লাখ তালবীজ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট উপজেলা সদরের নওয়াপাড়া শংকরপাশা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পতিত জমিতে ২০০টি তালবীজ রোপণ করে প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজ সংগ্রহের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে স্বেচ্ছায় বীজদানের জন্য আহ্বান করেছেন। এছাড়া সর্বস্তরের জনগণের কাছে তিনি বীজ চেয়েছেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বীজ দেওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর স্বেচ্ছাশ্রমে একযোগে উপজেলার সর্বত্র আড়াই লাখ বীজ রোপণ করা হবে। ওই বীজ স্কুল, কলেজ, মাদরাসার পতিত জমিতে এবং রাস্তার দুই পাশে রোপণ করা হবে। এ কাজের জন্য তিনি ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন দাসের তালগাছ আবাদের অভিজ্ঞতা জানতে পেরে তাকে বীজ সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন।
চিত্তরঞ্জন দাস জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রণোদনা পেয়ে মহাখুশি হয়েছেন। তিনি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজার বীজ সংগ্রহ করেছেন। আরো ৫০ হাজার বীজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক এবছর টেকা নদীর পাড়ে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় তালের বীজ রোপণ করে চলেছেন। এ কাজে তার প্রতিদিন দুটি ভ্যান ও ৫-৬ জন মজুর নিয়োজিত রয়েছে। এতে প্রতি দিন তার খরচ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। এবছর পয়লা ভাদ্র বীজ রোপণের কাজ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এখনই বীজ লাগানোর উপযুক্ত সময়। দেরি হলে বীজ গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন