তালায় আড়াই কিমি ঘুরে স্কুল-বাজারে, চাই সোজা রাস্তা

আপডেট: 02:30:37 28/08/2017



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা) : তালায় কপোতাক্ষ নদের গর্ভে বিলীন হওয়া জায়গা ফিরে পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এখন তারা এখন ফিরে পেতে চান চলাচলের রাস্তা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রাম ১৯৮০ সাল থেকে কপোতাক্ষ নদে বিলীন হতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে কপোতাক্ষ গর্ভে বিলীন হয় গ্রামের সাতটি পাড়া। এগুলো হলো- মালোপাড়া, ঘোষপাড়া, পরামানিকপাড়া, যুগিপাড়া, পালপাড়া, দত্তপাড়া এবং ঠাকুরপাড়া। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে নদের সেই জায়গাগুলোতে জেগে উঠেছে চর। তবে সেখানে আজ কোনো পাড়ার অস্তিত্ব নেই। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে কপোতাক্ষ নদ খনন কার্যক্রম। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৬১ কোটি ৫৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। তবে কোনো ব্যবস্থা হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের। ব্যবস্থা হয়নি জেঠুয়া প্রাইমারি স্কুল থেকে জেঠুয়া বাজার-সংলগ্ন সেই সংযোগ সড়কটি নির্মাণেরও।
স্থানীয় কেষ্টপদ বিশ্বাসের ছেলে নিমাই বিশ্বাস (৭০) বলেন, ‘ওই মাথায় জেঠুয়া বাজরে যাতায়াত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ মাথার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বর্তমানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাচ্চাদের। অন্যদিকে এ এলাকার লোকেদেরও আড়াই কিলোমিটার ঘুরে এ জেঠুয়া বাজার যেতে হয়। আগের রাস্তাটি যদি আবার নির্মাণ করা হয় তাহলে যানবাহন ছাড়াও হেঁটে চলাচলের অনেক সুবিধা হয়। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতেও সুবিধা হয় চাষিদের।’
স্থানীয় বাসিন্দা কলেজশিক্ষক আহ্লাদ চন্দ্র বলেন, ‘রাস্তাটি অনেক আগে ছিল। নদের ভয়বহ ভাঙনের কবলে পড়ায় রাস্তাটি বার বার সরাতে হয়েছে। বর্তমানে থাকা রাস্তাটিতে ১৩টি বাঁক রয়েছে। তাছাড়া রাস্তাটি অনেক ছোট। গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ রাস্তাটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলতে পারে না।’
স্থানীয় জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, ‘বিলীন হওয়া রাস্তাটি সোজাসুজি ছিল। কিন্তু বর্তমান রাস্তাটি অনেক আকা-বাঁকা হওযায় জনসাধারণ কষ্ট পাচ্ছে।’
তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, ‘আগের সেই রাস্তাটি অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে যেহেতু নদীর চর জেগে উঠেছে, তাই রাস্তাটি আবার তৈরি করা যায় কিনা বিবেচনা করে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন