তিন শিল্পীকে জয়নুল সম্মাননা

আপডেট: 07:17:56 29/12/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : এবারের ‘জয়নুল উৎসবে’ শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, রফিকুন নবী (রনবী) এবং ভারতের চিত্রকর শ্রীসনদ করকে জয়নুল সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
শুক্রবার চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দুইদিনব্যাপী এই উৎসব উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার আহমেদ বলেন, “আমরা এই উৎসবে এমন গুণী শিল্পীদের সম্মাননা দিয়ে থাকি যারা একইসাথে শিল্প ও শিক্ষা কার্যক্রমকে সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন।”
অনুষ্ঠানে জয়নুল সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীদের ক্রেস্ট, মানপত্র এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন অতিথিরা।
এবার সম্মাননা পাওয়া তিনজনের মধ্যে ভারতের প্রখ্যাত চিত্রকর ও শিক্ষক শ্রীসনদ কর শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। ছাপচিত্র এবং পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি কাজ করেছেন ভাস্কর্যেও।
১৯৯৫ সালে অবসর নেওয়ার পর আরো পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে আছেন এমিরেটাস অধ্যাপক হিসেবে। ছাপচিত্রে নানা গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি অভিনব কিছু পদ্ধতি এবং নতুন নান্দনিক সম্ভাবনার সুযোগ প্রণয়ন করেন।
সম্মাননা নিয়ে সনদ কর বলেন, “জয়নুল আবেদিন দাওয়াত দিয়েছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য। আসলে ইলিশ-পোলাও খাওয়াবেন বলেছিলেন। কিন্তু যখন এসেছি, তখন তিনি আর নেই।”
কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করা মুস্তাফা মনোয়ার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই চারুশিল্পী। বাংলাদেশ চারুশিল্প সংসদের নির্বাচিত সভাপতিও তিনি।
‘জয়নুল সম্মাননা’ পাওয়াকে `গুরুত্বপূর্ণ’ অভিহিত করে মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, “আজকে আমি খুব আনন্দিত…”। জয়নুল আবেদিনকে দিয়ে তার শেষ ছবিটি আঁকিয়েছেন জানিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
রনবী হিসেবে পরিচিত শিল্পী রফিকুন নবী ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৬৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেন তিনি। ক্রমান্বয়ে হয়ে ওঠেন চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক, অধ্যাপক এবং প্রধান।
চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রথম নির্বাচিত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রফিকুন নবী। বর্তমানে তিনি অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। রফিকুন নবী একাধারে চিত্রশিল্পী, ছাপচিত্রী এবং কার্টুনিস্ট। ‘টোকাই’ নামে কার্টুন চরিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে কিংবদন্তি শিল্পীর আসনে আসীন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজকে আমার জন্য এটা (জয়নুল সম্মাননা) একটা বিরাট গর্বের দিন। আমি সরাসরি স্যারের ছাত্র ছিলাম।”
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে ময়নুল আবেদিন বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি দশ বছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে, প্রতিবছরই আমার মা এখানে আসতেন। কিন্তু এবার অনিবার্য কারণে আসতে পারেননি বলে আমার মন খারাপ।
“বাবা কারুর প্রসারের জন্য অনেক কিছু করার চিন্তাভাবনা করতেন। কারুশিল্পীদের প্রসারের জন্য কাজ করার ইচ্ছে ছিল তার।”
উৎসবের আয়োজকদের তিনি সাধুবাদ জানান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক পছন্দ করতেন।
“জয়নুল আবেদিন এবং জাতির জনক মিলে সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের জায়গা ঠিক করেন এবং কাজ শুরু করেন। তিনি যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন তার কোনোকিছুই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।”
লোকশিল্পীদের তালিকা বানানো এবং লোকশিল্প জাদুঘর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।
সূত্র : বিডিনিউজ