দত্তনগর খামারের বাতিল আলুর এতো দাম!

আপডেট: 02:21:32 04/04/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : খোলাবাজারে ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বাধিক দশ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে। অথচ মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বিএডিসি কৃষি খামারে বীজ আলু বের করে নেওয়ার পর অবশিষ্ট অবীজ, ফাটা, পচা, কাটা ও ছোট আলু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ২১ টাকা থেকে ২২ টাকা কেজি দরে!
প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় দ্বিগুণ দামে ব্যবসায়ীরা কেনো এই আলু কিনলেন? নিশ্চয় লোকসান দেওয়ার জন্য কেউ এমন কাজ করবেন না। তাহলে কী কাজে লাগানো হবে এগুলো?
দত্তনগর বীজ উৎপাদনকারী খামারের পাঁচটি ফার্মে অবীজ, ফাটা, পচা,কাটা ও ছোট আলু, যেগুলো বীজ উৎপাদন যোগ্য নয়, টেন্ডার দেওয়া হয় গত ২১ মার্চ। কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ২১ টাকা থেকে ২২ টাকা দর দিয়ে টেন্ডার পায় পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ।
বলাবলি হচ্ছে, কাটা, ফাটা ও পচা আলুর আড়ালে বীজ উপযোগী আলুও বেচে দেওয়া হয়েছে গোপনে। সেই কারণেই এতো বাড়তি দাম দিয়ে তা ঠিকাদাররা কিনেছেন। যদিও খামারের কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদার এই অভিযোগ স্বীকার করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেন্ডারবঞ্চিত এক ঠিকাদার জানান, প্রতি বস্তায় ১১০ থেকে ১২০ কেজি যাই হোক না কেনো, হিসাব ধরা হয় ৫৫ কেজির বস্তা হিসেবে।
আলুর টেন্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান হালিম ট্রেড্রার্সের মালিক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি এ আলু বীজ হিসেবে কিনেছি। তাও আবার সর্বোচ্চ দামে নিতে হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাজার মূল্য ছাড়া তিন গুণ দাম বেশি দিয়ে অবীজ, ফাটা, পচা, কাটা ও ছোট আলু কিনে ঠিকাদাররা লাভ করবে কীভাবে বুঝতে পারছি না। এ নিয়ে আমাদের মাঝেও আলোচনা হচ্ছে।’
দত্তনগর বিএডিসি কৃষি ফার্মের যুগ্ম-পরিচালক আব্দুস সামাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গায় আছি। যা কিছু জানা প্রয়োজন গোকুলনগর কৃষি ফার্মের উপ-পরিচালক (ডিডি) তপনকুমারের কাছ থেকে জেনে নিবেন।’
গোকুলনগর কৃষি ফার্মের উপ-পরিচালক (ডিডি) তপনকুমার বলেন, ‘খুচরো বাজারে এখন আলুর কেজি ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। কিন্তু আমরা যে ফাটা, পচা, কাটা ও ছোট আলু টেন্ডারের মাধ্যমে ২১ টাকা ও ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি, তা বাজারে পাঁচ টাকা কেজি দরেও কেউ কিনবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা টেন্ডার পেয়েছে, তারা এসব আলু কোল্ড স্টোরে এখন রেখে দেয়। আগামী বছর এসব আলু বীজ হিসেবে বিক্রি করবে বলে জানতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন