দাকোপে দশ টাকায় চাল পাবেন ধনীরাও!

আপডেট: 01:11:21 30/09/2016



খুলনা অফিস : দাকোপের কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নে দুস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি ও কম দামে চাল বিক্রির ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সভায় এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে এ কাজ সমাধা করেছেন।
এ নিয়ে মেম্বারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থে ইউনিয়নের বিভিন্ন খালে মিনি ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন করছেন কৈলাশগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মণ্ডল। এ কারণে জাইকা প্রকল্পে নির্মিত একটি রাস্তার অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। হুমকির মুখে আরো কয়েকটি কাঁচা ও পাকা সড়ক। এলাকার ক্ষুব্ধ প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ এনে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
দুস্থ জনগোষ্ঠীর মাঝে কম দামে (দশ টাকা কেজি) চাল বিতরণের জন্য কার্ড প্রণয়ন ও ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এ অভিযোগে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মলিনা জোয়ার্দারসহ ছয়জন মেম্বার স্বাক্ষর করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান মিহির মণ্ডল কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই একক ক্ষমতায় নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে কার্ডের জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন। তালিকাভুক্তদের মধ্যে ভিজিডি কার্ডধারী, বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত, বাড়ি ও জমির মালিক, প্রবাসী, চাকরীজীবী ও বিত্তশালী রয়েছেন। আছেন একই পরিবারের একাধিক সদস্যও। এছাড়া ইউনিয়নে মাসুদ খান ও চম্পা রায়কে যৌথভাবে এবং লিটন জোয়ার্দারকে এককভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও লাউডোব ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল থেকে মিনি ড্রেজার বসিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বালি ওঠাচ্ছেন চেয়ারম্যান মিহির মণ্ডল। যে কারণে রামনগর পূর্বপাড়া এসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জাইকা প্রকল্পের পাকা রাস্তার অংশবিশেষ গর্তে ডেবে গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি পাকা ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে ঝুঁকির ভেতরে।
ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশের ৮৯ ধারায় এভাবে বালি উত্তোলনকে অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য করা হয়েছে। অথচ চেয়ারম্যান হয়েও মিহির মণ্ডল সেই অপরাধ করে চলেছেন বলে তার পরিষদের সদস্যদেরই অভিযোগ।
এছাড়া মিহির মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির অধীনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রামনগর দেবচক কালি মন্দির সংস্কার, বড়বাড়ি হরিমন্দির সংস্কার, দশঘর হরিমন্দিরে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং রামনগর সর্বজনীন শিবমন্দির সংস্কার ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে টিআর প্রকল্পে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সেট স্থাপন না করে এবং কাবিখা প্রকল্পে চারটি প্রকল্পের কাজ না করেই ১৮ টন গম আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন