দানবীয় ঝড় ‘ফণী’ উপকূলের কাছাকাছি

আপডেট: 01:00:45 03/05/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ধেয়ে আসছে হারিকেনের গতিসম্পন্ন দানবীয় ঝড় ‘ফণী’। ঝড়টি এখন বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের খুব কাছাকাছি রয়েছে। কাল সন্ধ্যার দিকে এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানায়, মোংলা সমুদ্রবন্দরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ৭৪০ কিলোমিটার দূরে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছ ‘ফণী’। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান এই তথ্য জানিয়েছেন।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবদুর রহমান খান আরো বলেন,  ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিবেগে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। আগামীকাল সন্ধ্যা নাগাদ মোংলা সমুদ্রবন্দরে আঘাত হানতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে চার নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।’
আবদুর রহমান জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ সামান্য উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় ( ১৭ দশমিক ২  ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়াসহ তা ১৮০ কিলোমিটার বেগে বইছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ছুঁয়ে শুক্রবার গভীর রাতে অথবা শনিবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে শক্তিশালী ফণী। উপকূলের জেলাগুলোতে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী। রেহাই নেই উত্তরবঙ্গেরও। রোববার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার দুপুর নাগাদ ওড়িশা উপকূলে গোপালপুর-চাঁদবালির মাঝে ফণী আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগের উপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ফণী এখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগারে অবস্থান করছে।  কলকাতা থেকে ফণীর অবস্থান ৭৩০ কিলোমিটার দূরে। দিঘা থেকে ৬১৫ কিলোমিটার। এ রাজ্যে তাণ্ডব চালানোর পর বাংলাদেশে ঢুকবে ফণী।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের পর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “৩ মে গভীর রাত অথবা ৪ তারিখ ভোরে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ৪ মে ফণীর প্রভাব থাকবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। উপকূলের দিকে গতিবেগ থাকবে ৯০ থেকে ১১৫ কিলোমিটারের মধ্যে। ৪ মে বিকেলের দিকে বাংলাদেশের দিকে ঢুকবে ফণী।”
আলিপুর আবহওয়া দফতর সূত্রে খবর, ফণীর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উপকূল এলাকায় বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ৩ মে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ তারিখ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। ওই দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও থাকছে সতর্কতা। ফণীর প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হবে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, দুই বর্ধমান, নদিয়াতে। দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি, সাগরে বিশেষ নজরদারি করছে প্রশাসন।
হাওয়া অফিসের তরফে মৎস্যজীবীদের সমুদ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে পর্যটকদেরও। দিঘা, মন্দারমণি, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, সাগরে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্ক বার্তা দেওয়া হচ্ছে সময়ে সময়ে। কলকাতায় হোর্ডিং ভেঙে, গাছ পড়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। জলমগ্ন হতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। নদীপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-ভারত, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ১০০টির উপরে ট্রেন বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন