দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি ‘অপহৃত’ স্কুলছাত্রী

আপডেট: 04:13:04 11/10/2018



img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শৈলকুপায় দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি ‘অপহৃত’ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ডরিন (১৫)।
সে উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর গ্রামের আলমগীর হোসনে বাদশার মেয়ে ও কৃপালপুর আবু আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
অপহরণের অভিযোগ এনে ডরিনের বাবা বাদশা বাদী হয়ে দুইজনের নামে ও অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ডরিন গত ২১ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বের হয়। এসময় তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় সাজন নামে এক যুবক। সেই থেকে ডরিন নিখোঁজ রয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয় পদ্মনগর গ্রামের প্রবাসী নজরুল ইসলাম মোল্যার ছেলে সাজন (২৩) ও চররূপদাহ গ্রামের মৃত আবদুল বারিক বিশ্বাসের ছেলে রান্নু (৪৫) এবং তাদের আরো ২-৩ সহযোগীকে।
ডরিনের বাবা আলমগীর হোসেন বাদশা জানান, তার মেয়ে ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তার নাবালিকা মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতের সময় চররূপদাহ গ্রামের সাজন মোল্লা উত্ত্যক্ত করতো, কুপ্রস্তাব দিতো। এবিষয়ে সাজনের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও ঘটনা জানানো হয়।
বাদশার অভিযোগ, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মদদে ডরিনকে গুম করা হতে পারে। আসামিরা তাকে প্রায়ই মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
এদিকে, প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ ডরিনকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় মা পারভীন বেগম ঝিনাইদহের আদালতে গুম-হত্যার আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি রান্নুকে গ্রেফতার করলেও তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের তৎকালীন ইনচার্জ এসআই খাইরুজ্জামান সাজনের চাচা ও তার মা সেলিনা বেগমকে আটক করলেও মোটা টাকার বিনিমিয়ে ছেড়ে দেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।
যোগাযোগ করা হলে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আয়ুুবুর রহমান বলেন, ডরিনকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে সাজনের পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকায় ওই দিনই তারা সপরিবারে গা-ঢাকা দেয়।

আরও পড়ুন