দুর্নীতির ফাইল গায়েব, বোর্ডের সচিব নিগৃহীত

আপডেট: 02:27:34 11/10/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফাইল গায়েব করে ফেলায় সতীর্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে নিগৃহীত হলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন।
বুধবার সন্ধ্যায় শেষ কর্মদিবসে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গেলে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ফাইল হারানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে।
হারিয়ে যাওয়া ফাইল দুটি সচিবের ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলা সংক্রান্ত বলে জানিয়েছে বোর্ড সূত্র। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) তিনি খুলনার একটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করবেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যশোর শিক্ষাবোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি হওয়ায় বৃহস্পতিবার তার যোগদানের দিন রয়েছে। যে কারণে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে যান। এসময় বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষ ঘেরাও করেন। তারা অভিযোগ করেন, সচিব গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফাইল না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে ওইসময় ব্যাপক হইচই হয়।
ঘটনার সময় চেয়ারম্যানের কক্ষে উপস্থিত শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড. মোল্লা আমির হোসেন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিন কোটি টাকার কাগজ কেনার ঘটনায় দুর্নীতি করে তিনি বোর্ডের এক কোটি নয় লাখ ৫৬ হাজার টাকার ক্ষতি করেছেন। ডিজিটাল প্রিন্টার কেনার নিলাম সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন সচিব। টাকা না পেয়ে প্রিন্টার গ্রহণ করেননি তিনি। যে কারণে তার নামে মামলাও হয়। এছাড়া ৫৬ লাখ টাকার খাম ক্রয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এসব ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে; যা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। ওই মামলা সংক্রান্ত ৩৩/৩ এবং ৭২ নম্বর ফাইল দুটি সরিয়ে ফেলেছেন সচিব। এছাড়া সচিব খুলনা থেকে লোক এনে তার অফিসিয়াল কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক পাল্টে নিয়ে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, সচিব চতুরতার সঙ্গে বিষয়টি এড়িয়ে কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে আটকে দেন। পরে বোর্ডের চেয়্যারম্যান তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলে সচিবকে যোগদানের জন্য যেতে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলিম জানান, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সচিবের কাছে সংরক্ষিত ছিল। যা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এনিয়ে কিছুটা হইচই হয়েছে। ফাইল গায়েবের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সচিবের কোনো যোগসাজস থাকলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘তিনি (সচিব) যেহেতু নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন সেকারণে তাকে প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়নি।’
প্রসঙ্গত, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু তোরাবকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বোর্ডের উপ বিদ্যালয় পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও প্রধান মূল্যায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে রাতে সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার রিং করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন