দুর্নীতি অনিয়মের আখড়া চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড

আপডেট: 03:21:29 09/07/2018



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়েই চলছে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার ও চাষি।
বিভিন্ন কৌশলে এ কার্যালয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম দানা বেঁধেছে। সঠিক তদারকির অভাবে বছর বছর বড় ধরনের অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম, ১৫ বছরের অধিক এ জেলায় কর্মরত তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং স্টোরকিপার কাম মাঠকর্মী (হিসাবরক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শয়েনচন্দ্র বর্মন। এরাই মূলত এ কার্যালয়ে সব কিছু। চাষি প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম করে সার ও কীটনাশক কেনা, চাহিদার তুলনায় কম হাইব্রিড তুলা বীজ চাষিদের দিয়ে বেশি দাম ইউনিট অফিস থেকে কেটে নেওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম চলছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। সেকারণে প্রভাবশালী তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। দেওয়া হয় মামলা করার হুমকি।
চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তুলা উৎপাদনের লক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, মাঠ দিবস ও পরিদর্শন, দলীয় সভা ছাড়াও বিভাগীয় ঋণ দেওয়া ও ব্যাংক ঋণ পেতে সহায়তা করা, কৃষি উপকরণ দেওয়া ও উৎপাদিত তুলা বাজারজাত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্যই চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি ইউনিট ও মেহেরপুর জেলার পাঁচটি ইউনিট কার্যালয় এবং একটি জিনিং কেন্দ্র নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জোনের কার্যক্রম।
এ জোনে তুলা উৎপাদন ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় এখানে কৌশলে টাকা লুটপাটের মাত্রাও বাড়তে থাকে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর, আলুকদিয়া, ডিঙ্গেদহ, দামুড়হুদা, হেমায়েতপুর, দর্শনা, কার্পাসডাঙ্গা, জীবননগর, দৌলৎগঞ্জ, আন্দুলবাড়ীয়া, আলমডাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জ, মেহেরপুর জেলা সদর, বকুলতলা, বাড়াদী, মুজিবনগর, মহাজনপুর ও জিনিং কেন্দ্র টাকা হরিলুটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে চুয়াডাঙ্গা জোনে ৬৭টি মাঠ দিবসে ৪০ জন করে চাষি অংশ নেন। তাদেরকে উপকরণ খরচসহ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এতে খরচ হয় ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একই অর্থবছরে দশটি প্রশিক্ষণে ৩০০ জন ও ১৭টি উদ্বুদ্ধকরণ সভায় ৩০ জন করে ৫১০ জন অংশগ্রহণকারী চাষির পেছনে উপকরণসহ খরচ হয় তিন লাখ ২৪ হাজার টাকা।
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে চুয়াডাঙ্গা জোনে ৪৫টি মাঠ দিবসে ৪০ জন চাষির পেছনে উপকরণসহ খরচ হয় নয় লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ১২টি প্রশিক্ষণে ৩৬০ জন ও নয়টি উদ্বুদ্ধকরণ সভায় ৩০ জন করে ২৭০ জন অংশগ্রহণকারী চাষির পেছনে উপকরণসহ খরচ হয় দুই লাখ ৫২ হাজার টাকা। চুয়াডাঙ্গা সদর ইউনিটের তুলাচাষি সুমুরদিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে শিপন আলী, সিঅ্যান্ডবিপাড়ার মরহুম আতর আলীর ছেলে বাবু, ভিমরুল্লাহ গ্রামের পটলের ছেলে খোকা, আলুকদিয়া তুলা ইউনিটের পীরপুর গ্রামের এলাহী বক্স মালিতার ছেলে আব্দুল মতিন দুদু, গোকুলখালী হুদাপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে জিনারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ফলন বাড়ানোর জন্য চাষি প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় অংশগ্রহণকারী চাষিদের কাছ থেকে কৌশলে ২-৩টি শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিয়ে আরো মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা না করে ওই স্বাক্ষরগুলো ব্যবহার করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় কলম ও প্যাড এবং খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস কেনার সময় ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করেও টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তুলা ইউনিট কর্মকর্তা অভিযোগ করেছে।
টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে স্টোরকিপার কাম মাঠকর্মী (হিসাবরক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শয়েনচন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম যেটা বলেন, আমি সেই মোতাবেক কাজ করি। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলেও আমার কিছুই করার নেই। তাছাড়া এ সব সন্ধান করে কোনো লাভ হবে না। আমরা যা করি তা প্রমাণ করা যাবে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কার্যালয়ে কোনো দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সার ও কীটনাশক কেনা হয় পছন্দের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এর জন্য মোটা টাকার সাপ্লাইয়ের কাজ খণ্ড খণ্ড কোটেশনের মাধ্যমে সরবরাহ আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়ম হলো কার্যালয় থেকে কোটেশন তৈরি করে তা তুলা উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নোটিস বোর্ড, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নোটিস বোর্ডে টাঙিয়ে দিতে হবে। পরে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা ওই কোটেশন অনুয়ায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্র দাখিল করবেন। তারপর কম দরদাতাকে তাদের সার ও কীটনাশক সরবরাহের আদেশ দেওয়া হবে। কিন্তু এই নিয়ম কোনো সময়ই মানা হয় না। কোটেশন টাঙানোর জন্য এ কার্যালয়ে নেই কোন নোটিস বোর্ড। অনিয়ম করে প্রত্যেক বছরই সার ও কীটনাশক সরবরাহের আদেশ দেওয়া হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার বিশ্বাস ট্রেডার্স, মিমপেক্স এগ্রো, হাসিব ব্রাদার্স ও টোটাল এগ্রোসহ চিহ্নিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে। অভিযোগ রয়েছে, টোটাল এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালামের ভাই চাকরি করার কারণে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কমিশন নিয়ে সেখান থেকে বেশিরভাগ কীটনাশক সরবরাহ নেওয়া হয়। অবশ্য ভাই টোটাল এগ্রোতে চাকরি করেন এবং সেখান থেকে কীটনাশক সরবরাহ নেওয়া হয় বলে স্বীকার করলেও প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম কমিশন নেওয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে হাইব্রিড তুলা বীজ কেনার ক্ষেত্রে। এই বীজ মূলত দেশের সুপ্রিম সিড ও লাল তীর কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে। এবার ইস্পাহানী এগ্রো হাইব্রিড তুলা বীজ চাষিদের কাছে তুলা ইউনিট কার্যালয়ের মাধ্যমে বিক্রি করবে। হাইব্রিড তুলা বীজ প্রতি কেজির দাম দুই হাজার ৩৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা। সারা বাংলাদেশে ওই নির্ধারিত দামেই তুলা বীজ বিক্রি হয়। পাশাপাশি সরকারিভাবে দেশে উৎপাদিত বীজও ২২ টাকা দরে চাষিদের কাছে বিক্রি করা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী ১৭টি তুলা ইউনিট কার্যালয় থেকে চাষিরা বাকিতে চাহিদামতো বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করেন। সেই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দরে ইউরিয়া প্রতি কেজি ১৬ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট ২২ টাকা ও পটাশ ১৫ টাকা করে চাষিদেরকে দেওয়া হয়। তুলা উৎপাদনের পর বিক্রির সময় ইউনিট কার্যালয় থেকে চাষিদের কাছ থেকে ওই বীজ ও কীটনাশকের দাম কেটে নেওয়া হয়।
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে দশ হাজার ২২৪ জন চাষি তিন হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করেন। এই জমিতে তুলা আবাদ করতে ১৭ হাজার ৮৮৮ কেজি হাইব্রিড বীজ প্রয়োজন হয়েছিল। যার দাম চার কোটি ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৫ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১১ হাজার ৪৮৬ জন চাষি চার হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করায় তাদের ১৮ হাজার ৭২৯ কেজি হাইব্রিড বীজ প্রয়োজন হয়। যার দাম পড়ে চার কোটি ৪০ লাখ ১৩ হাজার ১৫০ টাকা।
আন্দুলবাড়ীয়া তুলা ইউনিট কার্যালয়ের আওতাধীন চাষি ওই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সালাউদ্দিন, কোমর আলীর ছেলে তৈয়েব আলী ও ঘুগরাগাছী গ্রামের মঙ্গল আলীর ছেলে সোলায়মান অভিযোগ করে বলেন, ইউনিট কার্যালয় থেকে কেনার সময় বীজ ওজনে কম দেওয়া হয়। কিন্তু রেজিস্টার খাতায় ওজনের পরিমাণ বেশি লেখা হয়। যখন উৎপাদিত তুলা ইউনিট কার্যালয়ের মাধ্যমে জিনারদের কাছে বিক্রি করা হয় তখন রেজিস্টার খাতায় লেখা ওজনে অতিরিক্ত অংশের দামও কেটে রাখার কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এমনতরো দুর্নীতির ওপেন সিক্রেট হলেও তুলা ইউনিট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের কারণে জোন কার্যালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে চাষিরা তুলা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাইব্রিড বীজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বীজ বিক্রির ওপর কমিশন দেওয়া হয়। কিন্তু তা চাষিদের ঋণের মাধ্যমে দেওয়া বীজের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় না। ফলে চাষিরা ঠকছেন আর লাভবান হচ্ছেন কয়েকজন ইউনিট কর্মকর্তা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম।
চুয়াডাঙ্গা জোনে ২০১৬-২০১৮ অর্থবছরে ২১ হাজার ৭১৫ বেল ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২৪ হাজার ১৯৮ বেল আঁশ তুলা উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত তুলা চাষিরা ইউনিট কার্যালয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে গিয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সরকারিভাবে ইলেকট্রনিক স্কেল ব্যবহার করে তুলা মাপার নিয়ম থাকলেও তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সনাতন মাপযন্ত্র ব্যবহার করছেন। এতে চাষিদের ওজনে ফাঁকি দিতে সুবিধা হয়। কৌশলে চাষিদের তুলা চুরি করা হয়। চাষির কাছ থেকে নেওয়া অন্যায্য তুলা বিক্রির টাকা ইউনিট কর্মকর্তা দুজন বেসরকারি তুলা ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়ে নেন।
তুলা কেনাবেচায় মণপ্রতি ৬০ টাকা প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালামকে দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামের বক্কার আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে সাদেকুল ও মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে আখতার ফারুক।
ড. সালাম এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ডিজিটার মাপযন্ত্র দিয়ে পরবর্তীতে তুলা মাপা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন, এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের মূল হোতাই উল্লিখিত চারজন। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের পাশাপাশি চাষিদের চাষিদের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও আলুকদিয়া তুলা ইউনিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান দাবি করেন, তারা যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার নির্দেশেই সব কাজ করেন। তুলা এক বছরের আবাদ। সে কারণে অনেক চাষিই আগ্রহ দেখান না। অনেক চাষি বীজ, সার ও কীটনাশক ঋণ নিয়ে তুলা ওঠার পর সে টাকা ফেরত দিতে চান না।
‘‘তাছাড়া জিনারদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধেরও তাগাদা থাকে। এজন্য আমাদেরকে নানানভাবে ‘ব্যবস্থা’ করে চলতে হয়,’’ বলছেন সিরাজুল ইসলাম।
টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে স্টোরকিপার কাম মাঠকর্মী (হিসাবরক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শয়েনচন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘‘প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম যা বলেন, আমি সেই মোতাবেক কাজ করি। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলেও আমার কিছুই করার নেই। তাছাড়া এ সব সন্ধান করে কোনো লাভ নেই। আমরা যা করি তা প্রমাণ করা যাবে না। প্রতি অর্থবছরে যশোর ও ঢাকা অফিস এবং মন্ত্রণালয় থেকে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়ের সকল কাজ ও হিসাব-নিকাশের নিরীক্ষা করা হয়। ওই সময় স্যার তাদের ‘ম্যানেজ’ করে। সে কারণে লিখে কিছু করতে পারবেন না। স্যারের সঙ্গে দেখা করেন।’’
১৫ বছরের বেশি এ জেলায় কর্মরত তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং মাঠকর্মী শয়েনচন্দ্র বর্মণ, চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার কাঁধে চাপিয়েছেন। এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি নির্দেশ দিলেই তারা সব করবে কেনো? আমার ওপর দায় চাপিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি তো ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জোনের দায়িত্ব নিয়েছি। এর আগেও ওরাই এ জোন কার্যালয়ে কর্মরত ছিল, এখনো আছে। তারা এতদিন কী করেছে সেটা দেখা হবে।’

আরও পড়ুন