দুর্নীতি : সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন জেলে

আপডেট: 02:24:55 09/09/2019



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি কেনার নামে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার আসামি সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার সাতক্ষীরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এই নির্দেশ দেন।
আসামী তৌহিদুর রহমান হাইকোর্টের আদেশে ছয় সপ্তাহের জন্য জামিনে ছিলেন। গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। জামিন শেষ হওয়ার পর সোমবার স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি।
চাঞ্চল্যকর এই দুর্নীতি মামলার অপর আসামি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন গত ২৭ আগস্ট আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকেও হাজতে পাঠান। এছাড়া এ মামলার অপর পলাতক আসামি স্টোরকিপার ফজলুল হককে সম্প্রতি হাইকোর্ট এক আদেশে দেশ ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান গত ২৯ জুলাই হাইকোর্টে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন এবং ওই সময়ের মধ্যে নিম্নআদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তৌহিদুর রহমান গত ২৫ আগস্ট সাতক্ষীরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিননামা সম্পাদনের আবেদন করেন। আদালত তার জামিন বহাল রেখে জামিননামা সম্পাদনের নির্দেশ দেন।
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তার পক্ষে আদালতে জামিন শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট শাহ আলম ও অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন তোজাম।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দিলু। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট শাহিদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট শামিম আহমেদ, অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন লোদি প্রমুখ।
এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি সিভিল সার্জন অফিসের স্টোরকিপার মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিস নম্বর ৩৪১১৭/১৮ তারিখ ১১.০৭.১৯-এর আদেশে পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা এবং ওসি শ্যামনগর থানাকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, ফজলুল হককে ২১.০৭.১৯ তারিখের মধ্যে আটক করে নিম্নআদালতে সোপর্দ করতে হবে। তিনি যেন আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে দেশ ত্যাগ না করেন। কিন্তু ওই আদেশ পাওয়ার পর শ্যামনগর থানা পুলিশ ‘তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং অন্য এলাকায় বসবাস করে’ মর্মে একটি প্রতিবেদন পাঠায়। পরে হাইকোর্ট বিভাগ গত ২১.০৭.১৯ তারিখের অপর একটি আদেশে আইজিপি, ডিজিএফআই ও র‌্যাবের মহাপরিচালক, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার এবং ওসি শ্যামনগর থানাকে নির্দেশ দেন। এতে বলা হয়, মো. ফজলুল হক যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাত কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ফজলুল হক শ্যামনগর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি কেনার নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপ সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে স্পেশাল ২৫/১৯ নম্বর ওই মামলাটি দায়ের করেন।

আরও পড়ুন