দুর্নীতি : সিএস অফিস ঘেরাও, দুদকের অভিযান

আপডেট: 06:08:18 24/04/2019



img
img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ প্রায় ১৮ কোটি টাকা ‘লোপাটকারীদের’ গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও এবং স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ এই কর্মসূচি পালন করে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরা।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসুলর সভাপতিত্বে ঘেরাও কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সদস্য অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার, সুধাংশুশেখর সরকার, অ্যাডভোকেট ওসমান গনি, শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, অ্যাডভোকেট খগেন্দ্রনাথ, নিত্যানন্দ সরকার, রাশেদুজ্জামান রাশি, মশিউর রহমান পলাশ, অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন প্রমুখ।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরার সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান মাসুমের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসোনো মেশিন অকেজো, ইসিজি মেশিন ভালো রেজাল্ট দেয় না।
এমন নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, সরকার এই হাসপাতালের অনুকূলে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ তা ব্যবহারের অভাবে পড়ে থাকছে।
এর জন্য যেসব ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান দরকার তা এখানে নেই জানিয়ে তারা বলেন, এর ফলে সাতক্ষীরার মানুষ চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। এই হাসপাতালের কিচেন ও টয়লেটে বিরাজ করছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অনেক সরকারি ডাক্তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক খুলে বসে আছেন। তারা সেখানে দরিদ্র রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন টেস্টের নামে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এসব ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা হচ্ছে অভিযোগ করে তারা বলেন, এখানে প্রায়ই রোগীর মৃত্যু ঘটছে। অপরদিকে হাসপাতালে ব্যবহৃত সরঞ্জামের টেস্ট ভুল প্রমাণ করে তারা আরো বেশি ফায়দা লুটছেন।
জেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকার তিনটি টেন্ডারে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই টাকার বিনিময়ে ২৪ প্রকারের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান এইসব মালামাল ঠিকাদারের মাধ্যমে কেনার নামে পুরো টাকা আগাম পরিশোধ করেছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে রিপোর্ট দিয়েছে। অথচ বাস্তবে এসব সরঞ্জাম এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা হাসপাতালে পৌঁছায়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বিষয়টি তদন্ত করতে এলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। মালামাল গ্রহণের জন্য নিযুক্ত সার্ভে কমিটি লিখিতভাবে যে রিপোর্ট দিয়েছে বলে বলা হয়েছে, তাতে তারা কোনো স্বাক্ষর দেননি বলে তিনজন চিকিৎসক আসাদুজ্জামান, শরিফুল ইসলাম এবং ফরহাদ জামিল তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এমনকি স্টোরকিপার জয়ন্ত সরকার এসব মালামাল বুঝে পাননি বলেও উল্লেখ করেছেন।
এতবড় ঘাপলার উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রকৃতপক্ষে মালামাল বুঝে নেওয়ার মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র লিখে তাতে সিল-ছাপ্পর মেরে সরকারি কোষাগারের অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসে দুদকের অভিযান
এদিকে, সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের ঘেরাও কর্মসূচির এক ঘণ্টার মধ্যেই সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়ার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই টিমে ছিলেন সহকারী পরিচালক তরুণকান্তি, উপ-পরিচালক নীলকুমার ও এসআই শ্যামলচন্দ্র সেন।
দুদক কর্তৃপক্ষ জানায়, সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হওয়া প্রায় ১৯ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। ওই বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রাথমিকভাবে লুটপাটের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এদিকে দুদকের অভিযানের খবরে দুর্নীতিবাজ স্টোরকিপার ফজলু স্টোরের চাবি নিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আরও পড়ুন