দুর্ভাগা ব্রাজিলের সঙ্গে বিদায় লাতিন ফুটবলেরও

আপডেট: 02:10:58 07/07/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : মাঠের যে লড়াই, তাতে ব্রাজিল যদি ৩/৪ গোলের ব্যবধানেও জিততো, তাতেও অবাক হওয়ার কিছুই ছিল না। অথচ সেই দলই কি না বিদায় নিল এক গোলে পিছিয়ে থেকে।
ব্রাজিলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল লাতিন আমেরিকার ফুটবল। বিশ্বকাপ হয়ে উঠলো অলইউরোপিয়ান।
শুক্রবার রাতে ব্রাজিল হারলেও লাতিন ফুটবলের নান্দনিকতা উপভোগ করেছে গোটা দুনিয়া। আক্রমণের পর আক্রমণ। প্রতি মুহূর্তে আক্রমণ। কিন্তু সব আক্রমণই শেষ হয়ে যাচ্ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গে গিয়ে। বেলজিয়ান রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, বিশেষ করে গোলকিপারের অনবদ্য দক্ষতা বার বার হতাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান আক্রমণভাগকে। সঙ্গে ছিল গোল মিসের মহড়া। আসলে দিনটি ব্রাজিলের ছিল না। প্রথমেই আত্মঘাতী গোল। বারে লেগে বল ফিরে আসা, পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল গোটা ম্যাচজুড়ে। অপর পক্ষে হাতেগোনা সুযোগ থেকে ঠিকই গোল আদায় করে নিয়েছে বেলজিয়াম; যারা শেষ ষোলর লড়াইতে এশিয়ার প্রতিনিধি জাপানের কাছে বিদায় নিয়েছিল বললেই চলে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-২ গোলে হেরে কোয়ার্টারে ফাইনালেই থেমে গেল ব্রাজিল। আর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে পা রাখলো বেলজিয়াম।
কাজান যেন বড় দলগুলোর জন্য মৃত্যুকূপ! এখানেই গ্রুপ পর্বে ‘অপমৃত্যু’ হয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির। শেষ ষোলোতে আটকে গেছে আর্জেন্টিনার স্বপ্নের রথের চাকা। সেই কাজানে আরেক শিরোপা প্রত্যাশী পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কী হয়, তাই ছিল দেখার অপেক্ষা। এতক্ষণে সবাই জেনে গেছেন কাজান নামক মৃত্যুকূপে ডুবেছে ব্রাজিলও।
বেলজিয়ানরা ম্যাচটি জিতে নিয়েছে সত্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য; গোল মিস ও নেইমারদের সামনে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবি কোর্তোয়া চীনের প্রাচীর হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচটি বড় ব্যবধানেই জিততে পারতো ব্রাজিল।
৮ মিনিটেই দুর্ভাগ্যের সাইড পোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। নেইমারের কর্নার কিকে গোলমুখ থেকে পা লাগিয়েছিলেন থিয়াগো সিলভা। কিন্তু তা সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পরে উইলিয়ানের নেওয়া কর্নার থেকেও সুযোগ পেয়িছিলেন পাউলিনহো। কিন্তু তার দুর্বল ভলি বেলজিয়ান ডিফেন্ডার অনায়াসে বিপন্মুক্ত করেছেন।
দিনটা যে ব্রাজিলের নয়, তা বোঝা গেল ১৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেই। হ্যাজার্ডের নেওয়া কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে বাহুতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। ৩১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ২-০ করেন কেভিন ডি ব্রুইনা। রোমেলু লোকাকুর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বুলেট গতির শটে গোলটি করেছেন ব্রুইনা। ব্রাজিল ব্যবধান কমায় ৭৬ মিনিটে। দলের হয়ে একটি গোল পরিশোধ করেন বদলি রেনাতো আউগুস্তো।
২০০২ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জেতার পর প্রতিটা বিশ্বকাপই সেলেসাওদের জন্য হেক্সা স্বপ্ন। ঘরের মাঠে ২০১৪ বিশ্বকাপ থেমেছে সেমিফাইনাল থেকেই। আর এবার তো শেষ চারের চৌকাঠেও পা রাখতে পারলো না দুনিয়াজোড়া কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্নের দলটি।