দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয়

আপডেট: 08:09:43 02/05/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী; দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃতি ও এর বিপদ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখার পাশাপাশি ঝড় আঘাত আনার সময়ে করণীয় সম্পর্কে উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হতে পারে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
# ঝড়-জ্বলোচ্ছ্বাসপ্রবণ বাংলাদেশে মূলত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
# এ সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড় ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধস ঘটতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেনতা তৈরির জন্য মাইকিং করার পাশাপাশি আবহাওয়ার সতর্ক বার্তা প্রচার, স্বেচ্ছাসেবীদের মোতায়েন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিক থাকলে ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে শুক্রবার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে পৌঁছাতে পারে ফণী। তবে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে দেখা দিতে পারে সকাল থেকেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত ধরে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে এ ঝড়। তখন বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার।
এ কারণে শুক্রবার সকাল দশটা থেকে উপকূলীয় ১৯ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল জানিয়েছেন।
>> ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও গতিপথ অনুযায়ী বন্দরগুলোতে জারি করা হয়েছে বিপদ সংকেত।
>> আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
>> প্রতিকূল আবহাওয়ার শঙ্কায় সারা দেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।
>> ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে এমন সম্ভাব্য এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিচু এলাকায় পাকা দালানে থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। সুতরাং কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে দেরি না করে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া উচিৎ।
>> উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের আগে পাঠাতে হবে।
>> আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় টর্চ লাইট, দেশলাইসহ মোমবাতি, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
>> ঘূর্ণিঝড়ের ‘চোখ’ বা কেন্দ্র উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রমের সময় কিছুটা সময় সব শান্ত হয়ে আসে। তখন ঝড় শেষ ভেবে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়া চলবে না, কারণ ‘চোখ’ পেরিয়ে গেলে আবার আগের শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালায় ঝড়। সুতরাং ঝড় সরে যাওয়ার বা থেমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র ত্যাগ করা উচিৎ হবে না।
>> ঘূর্ণিঝড় প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হতে পারে ভূমিধস, সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
 
ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃতি
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রকে ‘চোখ’ বলে। আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি দুর্যোগপূর্ণ থাকে ওই ‘চোখ’ এর চারদিকের এলাকায়। ওই এলাকাকে বলে ‘চক্ষুপ্রাচীর’।
যে মেঘবলয় কুণ্ডলী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয় তাকে কুণ্ডলীগত বৃষ্টিবলয় বলা হয়। এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সামনে ডান-চতুর্থাংশে অতি ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া এবং এমনকি টর্নেডোও সৃষ্টি করে থাকে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের যেখানে কম মেঘ থাকে, সেখানে অনেক সময় দশ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ঝড়ের ‘চোখ’ দেখা যায়। এ ‘চোখ’ অতিক্রমকালে সাময়িকভাবে অতি হালকা বৃষ্টিপাত ও সামান্য বাতাসসহ আবহাওয়া শান্ত থাকার সম্ভাবনা থাকে।

জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র
জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
৯৫৪৫১১৫, ৯৫৪৯১১৬, ০১৭৫৫৫৫০০৬৭ নম্বরে ফোন করে, ৯৫৪৯১৪৮, ৯৫৪০৫৬৭ নম্বরে ফ্যাক্সে এবং ndrcc@modmr.gov.bd ইমেইল করা যাবে।
 
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম
ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়টি ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে বলে এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৮০১/ক কক্ষে স্থাপিত এই কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর ০২-৯৫৪৬০৭২।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি তথ্য ও নির্দেশনা আদান-প্রদানের জন্য এ কন্ট্রোল রুম খোলা  হয়েছে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সূত্র : বিডিনিউজ