দু'মাস পর কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন

আপডেট: 07:50:10 06/02/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে ইয়াসমিন নামের এক গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের প্রায় দু'মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার উপস্থিতিতে মণিরামপুর উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই খান আব্দুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬ জানুয়ারি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।
গত ১০ জানুয়ারি নিহতের স্বামী মতিয়ার রহমান তার স্ত্রী ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে একই গ্রামের বুলবুল খাঁ (৩০) ও তার বাবা আমিন উদ্দিন খাঁকে (৫৩) আসামি করে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মণিরামপুর থানার ওসিকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিলে ২১ জানুয়ারি থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহমান ২২ জানুয়ারি ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী দু'সন্তানের জননী গৃহবধূ ইয়াসমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতের যেকোনও সময় হত্যা করে বাড়ির পাশে সুপারি বাগানে সীমানা বেড়ার তারের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের স্বামী পরিবারের অভিযোগ, হত্যার ঘটনা আড়াল করতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখাসহ তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুলবুল গৃহবধূ ইয়াসমিনকে কু-প্রস্তাব দিলে তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানান।  মতিয়ার বিষয়টি বুলবুলের বাবা আমিন উদ্দিন খাঁকে জানালে বুলবুল দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর বুলবুল গৃহবধূ ইয়াসমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
নিহত ইয়াসমিনের ভাসুর লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াসমিন রাতের খাবার রান্না করছিল। বুলবুলের কাছে ইয়াসমিনের প্রায় দু' লাখ টাকা রাখা ছিল। সেখান থেকে ২০ হাজার টাকা চায় মতিয়ার। কিন্তু বুলবুল টাকা না দিয়ে টালবাহানা করে। সব টাকা আত্মসাৎ করতে বুলবুল ইয়াসমিনকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর মৃত দেহের পা মাটিতে রাখা অবস্থায় তারের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। লাশের গলার বাম পাশে আঙ্গুলের ছাপ ছিল।  গোসলের সময় সব আলামত পাওয়া যায়।
লুৎফর রহমান বলেন, আদালতে মামলা করার পর থেকে বুলবুল ও তার বাবা আমিন উদ্দিনকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এখনও তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, নিহত ইয়াসমিনের বাবা লিয়াকত আলী প্রবাসে থাকায় তার (ইয়াসমিনের) ফুফাত ভাই উপজেলার সাতগাতী গ্রামের আকবর আলী গত ৩০ জানুয়ারি ইয়াসমিনের স্বামী মতিয়ার রহমান, দেবর আব্দুর রাজ্জাক ও বুলবুলসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আকবরের দাবি, বুলবুল তার বোনকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার পর তার স্বামী মতিয়ার ইয়াসমিনকে সন্দেহ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মতিয়ারই অন্যান্য আসামিদের নিয়ে তার বোনকে হত্যা করে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহমান বলেন,‘মামলা হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।’

আরও পড়ুন