দৃষ্টিহীনা তৃষ্ণা পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

আপডেট: 09:13:42 20/07/2018



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : দুই চোখে আলো নেই। নিভে গেছে এসএসসি পরীক্ষার আগেই। কিন্তু তাতে দমেনি হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সাদিয়া আফরিন তৃষ্ণা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি দমিয়ে রাখতে পারেনি ঝিনাইদহের এই মেয়েটির। জীবন সংগ্রামের কয়েকধাপ পেরিয়ে তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন। নৈশপ্রহরী বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি হতে চান শিক্ষক।
শৈলকুপা উপজেলার ব্রাহিমপুর গ্রামের হতদরিদ্র মিজানুর রহমানের প্রথম সন্তান তৃষ্ণা। ২০০৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার আগে চোখে ঝাঁপসা দেখা শুরু করে সে। এরপর তাকে রংপুর, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং শেষে ঢাকা ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাবার সহায় সম্বল বিক্রি হলেও ধরে রাখা যায়নি তার চোখের আলো। ওই বছরের শেষের দিকে তার দুই চোখের আলো পুরোপুরি নিভে যায়।
দৃষ্টি হারানোর পর একা একা পড়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। সঙ্গে রয়েছে দারিদ্র্যের কষাঘাত। কিন্তু একটুও মনোবল হারায়নি সে। তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা ব্যাপিস্ট চার্চ মিশনারিজ স্কুলে। অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২০১৫ সালে এ গ্রেড নিয়ে এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হয় বেগম বদরুন্নেছা মহিলা কলেজে। সেখান থেকে এ গ্রেড নিয়ে নিয়ে পাস করার পর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়নরত তৃষ্ণা।
ব্যাপিস্ট চার্চ মিশনারিজ স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর শিক্ষকদের লেকচার রেকর্ড করে পড়তে হয়েছে তাকে। এছাড়া বন্ধুদের দিয়ে পড়া রেকর্ড করিয়ে দিয়েছেন এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। লেখাপড়া ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়ার জন্য এখন তার দরকার একটি ল্যাপটপ। অর্থাভাবে একটি ল্যাপটপ কিনে দিতে পারছেন না বাবা।
তৃষ্ণা জানান, চোখের আলো না থাকলেও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, ইচ্ছা নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে। লেখাপড়া শেষ করে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে একজন ভালো শিক্ষক হতে চান।
বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিজের দুই বিঘা জমি বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু চোখ ভালো হয়নি। এখন অনেক কষ্টে লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছি। সমাজের বিত্তবানদের কেউ যদি তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতেন তাহলে তার স্বপ্ন পূরণ হতো।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজকুমার নাথ বলেন, ‘তৃষ্ণার লেখাপড়ার জন্য জেলা প্রশাসন সকল প্রকার সহযোগিতা করবে। আমরা আশা করি, সে লেখাপড়া শেষ করে একজন স্বাবলম্বী ও ভালো মানুষ হয়ে সমাজ তথা দেশের কল্যাণে কাজ করুক।’