দেলোয়ারের টার্কি খামার

আপডেট: 02:03:26 27/11/2017



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিক্ষিত বেকার যুবক দেলোয়ার হোসেন টার্কি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চলেছেন। তিনি শৈলকুপা শহরের শিক্ষকপাড়ার আব্দুল হকের ছেলে।
এই বেকার যুবক এক বছর আগে ছয় হাজার টাকা দিয়ে মাত্র দুটি টার্কি কিনে চাষ শুরু করেন। এখন তার খামারে এই টার্কির সংখ্যা দুই শতাধিক। যার দাম সাত লক্ষাধিক টাকা। ডিম, বাচ্চাও উৎপাদিত হচ্ছে খামারে।
সুস্বাদু এ পাখির মাংস, ডিম, বাচ্চা কিনতে দেলোয়ারের খামারে এখন অনেক মানুষের আসা যাওয়া।
টার্কি বড় আকারের গৃহপালিত পাখি। পশ্চিমা হলেও আমাদের দেশে খাদ্য তালিকায় ক্রমেই এর অবস্থান বাড়ছে।
দেলোয়ার মাস্টার্স পাশ করে চাকরির আশায় না থেকে ২০১৭ সালের শুরুতে ‘এবি ফার্ম’ নামে শহরের শিক্ষকপাড়ার বাসায় খামার গড়ে তোলেন।
তার খামারের পাখির ওজন গড়ে প্রায় সাত কেজি। এক জোড়া টার্কি বিক্রি হয় ৫-৬ হাজার টাকায়। দেলোয়ারের অনুকরণে শৈলকুপার বাগুটিয়া, সাধুহাটি, মজুমদারপাড়া, গোবিন্দপুরে গড়ে উঠেছে আরো কয়েকটি খামার। যুব উন্নয়ন অফিস দিচ্ছে প্রশিক্ষণ আর প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন দেখভাল করছেন।
ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার ছয় মাসের মধ্যে টার্কি ডিম দেয়। বছরে ২৩০টার বেশি ডিম দেয় একেকটি মেয়ে টার্কি। ছয় মাসের মেয়ে টার্কির ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি। আর পুরুষগুলো প্রায় আট কেজি। দেশি মুরগির মাংসের মতো করেই টার্কি রান্না করা হয়। রোস্ট ও কাবাব করা যায়। টার্কির মাংস সুস্বাদু।
দেলোয়ার হোসেন জানান, বছর শেষ না হতেই তার হাতে এখন সাত লাখ টাকা পুঁজি। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। তার কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে অনেক শৌখিন খামারি ছোট আকারে টার্কি পালন শুরু করেছেন। ময়ূরের মতো লেজ ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় এসব পাখি। আর ডাকাডাকিতে ঘর মাথায় তোলে।
টার্কির পাশাপাশি দেলোয়ার এখন তিতি পাখি পালন শুরু করেছেন। টার্কি পাখির বাচ্চা ফুটাতে নিজেই একটি ‘ইনকিউবেটর’ যন্ত্র তৈরি করেছেন।
টার্কির খাবার ও রোগবালাই নিয়ে মুরগির চেয়ে দুর্ভাবনা কম। এরা ঠান্ডা-গরম সহ্য করতে পারে। ধান, গম, ভুট্টাসহ দানাদার খাবারের চেয়ে সাধারণ প্রাকৃতিক খাবার কলমিশাক, বাঁধাকপি, ঘাস এসব বেশি পছন্দ করে। তবে সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় টার্কির দাম দাম একটু বেশি। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে টার্কি খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়নি। তবে আগ্রহ একেবারে কম নয় বলে জানালেন এই যুবক।
শৈলকুপায় যুব উন্নয়ন অফিস প্রশিক্ষণ দিচ্ছে টার্কি চাষে আগ্রহীদের। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদার রশিদ জানান, টার্কির মাংসে রয়েছে মানবদেহের জন্য দরকারি প্রোটিন। মাংসে চর্বি কম। দেশে পালিত অন্যান্য পাখির মাংসের চেয়ে টার্কি বেশি পুষ্টিকর।
শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, টার্কি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া যায় সহজেই। তাই বিভিন্ন স্থানে যারা টার্কি চাষ করছেন, সেখানে রোগ বালাই সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করছে তার অফিস। এছাড়া খামারিদের প্রশিক্ষণ নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।