দৌড়ে এসে মৃতদেহ নামিয়ে ফের দৌড়

আপডেট: 10:20:50 10/03/2018



img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের আবাসিক হোস্টেলে চৈতি মণ্ডল নামে বাংলা অনার্স প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী শনিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের স্কুলশিক্ষক রূপকুমার মণ্ডলের মেয়ে।
হোস্টেল কেয়ারটেকার আব্দুল জলিল জানান, বেলা ১১টার দিকে ভাই পরিচয়ে এক যুবক এসে চার তলায় অবস্থানরত চৈতী নামে ওই ছাত্রীর খোঁজ জানতে চান। এ সময় তিনি জানান, মোবাইল বন্ধ রাখায় বোনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে না।
একথা শোনার পর কেয়ারটেকার জলিল হোস্টেলের অন্য ছাত্রীদের দিয়ে মেয়েটির কক্ষে খোঁজ নেন। সহপাঠিনীরা কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। দেখতে পান মেয়েটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।
এ খবর শুনে ভাই পরিচয়দানকারী ওই যুবক দৌড়ে হোস্টেলের চার তলায় উঠে দরজা ভেঙে ফ্যানে ঝুলতে থাকা মৃতদেহটি নিচে নামায়। এরপর একইভাবে দৌড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে পাঠায়।
এদিকে মেয়ের আত্মহত্যার খবর পেয়ে বাবা স্কুলশিক্ষক রূপকুমার মণ্ডল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য রিগ্যান নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করে এর বিচার চান। রিগ্যানের সঙ্গে প্রেম ও তার প্ররোচনায় চৈতি আত্মহত্যা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রিগ্যান যশোর এমএম কলেজে লেখাপড়া করেন। তার বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায়।
কলেজ অধ্যক্ষ শাহাজ উদ্দিন জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মাগুরা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন