দড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে পড়ে মারা যান ভারতীয়

আপডেট: 05:13:10 27/01/2018



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা শহরের নতুন বাজারের  ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে শনিবার সকালে গোবিন্দ ভট্টাচার্য (৩৫) নামে ভারতীয় এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যু সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সরফরাজ নেওয়াজ জনি নামে এক যুবককে আটক করেছে। গোবিন্দ পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যম গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ছেলে।
ভবন এলাকার প্রতিবেশী গুপ্ত বিশ্বাস জানান, সকাল সাতটার দিকে ওপর থেকে কিছু একটা পড়ার শব্দ পেয়ে ছয়তলা ভবন-সংলগ্ন একটি একতলা ভবনের ছাদে মানুষের গোঙানির শব্দ পান। এ সময় অন্যদের সহযোগিতায় ওই ছাদে গিয়ে একব্যক্তিকে রক্তাক্ত  ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান ওই ব্যক্তি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরা সদর থানার পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ও পঞ্চম তলার ওই ফ্লাট থেকে সরফরাজ নেওয়াজ জনি নামে ওই যুবককে আটক করে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে আটক সরফরাজ নেওয়াজ জনি মৃত গোবিন্দ ভট্টাচার্য সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছেন। সরফরাজ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওই ভবনের পঞ্চম তলার ফ্লাটটি শহরের ছায়াবীথি সড়কের সোহেল পারভেজ ও পারনান্দুয়ালী এলাকার ছমির হোসেন জনির সহযোগিতায় ভাড়া নেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে গোবিন্দ ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের গার্মেন্ট ব্যবসার লেনদেন ছিল। সেই সূত্রেই তাদের সাড়ে আট লাখ টাকা দীর্ঘদিন অনাদায়ী পড়ে আছে। সম্প্রতি গোবিন্দ গার্মেন্টের কাপড় কিনতে ঢাকায় আসেন। এ সময় তাকে মাগুরায় বেড়ানোর কথা বলে বুধবার ওই ফ্লাটে আটক করা হয়। ওই আটক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে শনিবার সকালে ফ্লাটের বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা অংশ দিয়ে দড়ি বেঁধে নিচে নামার সময় পড়ে গিয়ে মারা যান গোবিন্দ। তিনি ভারতীয় নাগরিক।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন আরো জানান, নিহত গোবিন্দ ভট্টাচার্যের কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। আটক সরফরাজের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য পেয়ে তদন্তে গোবিন্দের নাম ও ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরফরাজকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সোহেল পারভেজ ও ছমির হোসেন জনিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভবনের ম্যানেজার নুরুল আমিনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের নতুন বাজারে হাটখোলা সড়কে এই ছয়তলা ভবনটি অবস্থিত। ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন মালিক কাজী শামীমুর রহমান। ভবনের নিচতলায় রয়েছে দুটি গুদাম। দ্বিতীয় তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত অন্য নয়টি ফ্লাট ভাড়া দেওয়া। ভবনের পঞ্চম তলার পশ্চিম দিকের ফ্লাটটি আটক সরফরাজসহ তিন যুবক ভাড়া নেন। সেখানেই মঙ্গলবার থেকে আটক ছিলেন গোবিন্দ ভট্টাচার্য। আর শনিবার সকালে ঘটে মৃত্যুর এই ঘটনা।
ভবন মালিক কাজী শামীমুর রহমান বলেন, ‘সরফরাজ হোসেন জনিসহ ওই তিনজন ভবন দেখার কাজে নিয়োজিত ম্যানেজার নুরুল আমিনের কাছ থেকে মঙ্গলবার পঞ্চম তলার ওই ফ্লাটটি ভাড়া নেয়। আমি গত চারদিন ধরে পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরের দারিয়াপুরে ছিলাম। সকালে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি।’