ধর্মঘটে স্থবির দক্ষিণ-পশ্চিমে নৌপরিবহন

আপডেট: 07:11:46 26/08/2016



img
img
img

খুলনা অফিস : ধর্মঘটের চতুর্থ দিনেও স্থবির হয়ে রয়েচে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবারও খুলনা, মংলা ও নওয়াপাড়ায় হাজারো নৌযান নোঙর ফেলে নিশ্চল হয়ে রয়েছে।
এদিকে, লাগাতার ধর্মঘটের কারণে পণ্যবোঝাই জাহাজ-কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান খুলনা-যশোর-বাগেরহাট এলাকার ঘাটে ঘাটে আটকা পড়ে আছে। শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য রয়েছে জাহাজগুলোতে।
নৌপথে পণ্য পরিবহন মুখ থুবড়ে পড়ায় শিল্প কারখানায় উৎপাদন সংকট এবং বাজার পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে নৌযান শ্রমিকরা সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু করে।
অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ফলে শুক্রবার খুলনার বিআইডব্লিউটিএ, চার, পাঁচ, ছয় ও সাত নম্বর ঘাট এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হয়নি। এছাড়া খুলনা লঞ্চঘাট থেকে কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি বা আসেনি। এছাড়া বাগেরহাটের মংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত কোথাও কোনো নৌযান চলছে না। নওয়াপাড়া থেকে শুরু করে মংলার হারবারিয়া পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় দুই হাজার নৌযান নোঙর ফেলে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোও বন্ধ রয়েছে চারদিন ধরে। এর ফলে যাত্রীদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
ধর্মঘটের কারণে খুলনা, নওয়াপাড়া, মংলাসহ বিভিন্ন ঘাটের হাজার হাজার শ্রমিক অলস সময় কাটাচ্ছেন।
নৌপথে পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী। সে কারণে হওয়ায় শিল্প কারখানায় ব্যবহার্য কাঁচমালসহ নানা পণ্যের সিংহভাগ এখনো নৌপথে পরিবহন করা হয়। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে নৌপথের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। মংলায় আসা আমদানি পণ্যের বেশিরভাগই কার্গো বা ছোট জাহাজে যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে আসে। সেখান থেকে এসব পণ্য চালান যায় উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। আমদানিকৃত সার, সিমেন্টের ক্লিংকার, পাথরসহ শত ধরনের পণ্য পরিবহনে নওয়াপাড়া বন্দর ব্যবহৃত হয়। সময়মতো পণ্য পরিবহন না হওয়ায় শিল্প উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে চলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, খুলনা থেকে রাজধানীর যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয় নৌপথ। ধর্মঘটের কারণে এই পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। আশপাশের বিভিন্ন গন্তব্যে লঞ্চ বা ছোট ছোট নৌযান চলাচলও বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, খুলনায় নৌ বন্দরগুলোতে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। খুলনার নৌ ঘাটসহ মংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম নৌযান শ্রমিকদের দাকিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ধর্মঘটের কারণে মংলা বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন