ধর্মঘটে অচল খুলনা মংলা নওয়াপাড়ার নৌ-পরিবহন

আপডেট: 02:17:09 23/08/2016



img

খুলনা অফিস : নৌযান ধর্মঘটে খুলনাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ অচল হয়ে পড়েছে।
নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌ-টারমিনালগুলোতে আটকা পড়েছেন যাত্রীরা। চরম দুর্ভোগের শিকার এসব যাত্রীর সময় কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। এর আগে বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে নৌযান শ্রমিকরা সোমবার রাত ১২টা এক মিনিট থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এদিকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় শিল্পনগরী খুলনা ও মংলা বন্দরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া খুলনা ও মংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে ।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মঙ্গলবার বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নৌপথে চুরি-ডাকাতি বন্ধ ও নদী খননসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য সোমবার মধ্যরাত থেকে নৌ-যান শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন। তবে তেলবাহী ট্যাংকার এ ধর্মঘটের আওতামুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ডাকা ধর্মঘট খুলনা ও মংলায় সর্বাত্মকভাবে পালিত হচ্ছে। এতে যশোরের নওয়াপাড়া থেকে শুরু করে মংলার হারবাড়িয়া পর্যন্ত নৌ-পথ অচল হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক কাসেম মাস্টার বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি দশ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন স্কেল ঘোষণা, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাস, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং নদীপথ প্রতিরক্ষাসহ ১৫ দফা দাবিতে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে দেশের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ ধর্মঘট চলবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত এপ্রিলে একই দাবিতে নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘটে যান। সে সময় অচল হয়ে পড়ে সারাদেশের নৌযোগাযোগ। পরে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান মালিক-শ্রমিকদের সমঝোতা করে দেন। কিন্তু মালিক পক্ষ সমঝোতা না মেনে আদালতের আশ্রয় নেওয়ায় নৌযান শ্রমিকদের সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে ধর্মঘটের ডাক দেয় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।

আরও পড়ুন