ধর্ষিতার সন্তান হরণ : ওসি-কে কৈফিয়ত তলব

আপডেট: 08:20:21 07/12/2017



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের ধলাইতলা গ্রামে ধর্ষিতা কুমারী মায়ের কোল থেকে জোর করে নবজাতককে কেড়ে নেওয়ার ঘটনা জানা সত্ত্বেও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদালত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ নবজাতকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) নড়াইলের আমলী আদালতের (লোহাগড়া) জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল আজাদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। তিনি ১১ ডিসেম্বর ওসিকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আদেশে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগ আমলযোগ্য। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কোনো ব্যক্তির অভিযোগ দায়েরের বাধ্যবাধকতা নেই। আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ যে কোনো সময় পুলিশ কর্মকর্তা জ্ঞাত হলেই তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৫৬ ধারা মোতাবেক তদন্ত করবেন। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ জ্ঞাত হওয়ার পরও তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগনামা না পাওয়ার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন; যা আইনকে ফাঁকি দেওয়ার শামিল। তার (ওসির) এমন অবজ্ঞা/অবহেলা ‘কেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা বলে গণ্য হবে না’- তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া কেন তিনি আইনযোগ্য ঘটনা জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, সে বিষয়ে আগামী ১১ তারিখে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ওই তারিখে নিখোঁজ নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ২ ডিসেম্বর বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার একটি গ্রামে জনৈক দিনমজুরের ১৯ বছরের ধর্ষিতা মেয়ে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। একদিন পরেই নবজাতককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ধর্ষকপক্ষীয় প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে সুবর্ণভূমিতে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়

আরও পড়ুন