ধানের দাম কম, হতাশ নড়াইলের কৃষক

আপডেট: 08:59:07 21/05/2018



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : বিগত বছরের তুলনায় এবছর নড়াইলে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে কৃষক-কৃষাণীরা ঘরে ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশা নেমেছে কৃষক পরিবারগুলোতে। নির্দিষ্ট সময়ে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় খোলাবাজারে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
আমন মৌসুমে দাম ভালো থাকায় এবছর বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ হয়েছে আগের বছরের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি আবহাওয়া মোটামুটি অনুক‚লে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নড়াইলে এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৬৫০ হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি। জেলায় প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিলের পাকা ধানের শীষে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে বিলের ধানে ভরে উঠবে কৃষকের গোলা।
কৃষকরা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের সঙ্গে নড়াইলে ২ মে থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। ফলে কৃষকরা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, কৃষকদের অভিযোগ, সংগ্রহ শুরু হলেও প্রান্তিক কৃষকেরা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারেন না। গুদামে সিন্ডিকেট করে ধান কেনা হয়।
উজিরপুর এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, এক মণ ধান উৎপাদন করতে সাতশ’ থেকে সাড়ে সাতশ’ টাকা খরচ হয়। বর্তমানে বাজারে একমণ ধান ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ ওঠাও কঠিন।
আমাদা গ্রামের কৃষক কাশেম ও বিজয়পুরের রতনকুমার জানান, তারা বংশপরম্পরায় কৃষিকাজ করেন। প্রতি বছর তারা অনেক ধান বিক্রি করেন। কিন্তু কোনো দিন তারা সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারেননি।
তাদের মতো শত শত কৃষকের অভিযোগ, গুদামে দিতে গেলে বিভিন্ন বাহানা করে তাদের ধান নেওয়া হয় না। যারা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করতে পারেন, তাদের ধানই সরকার সংগ্রহ করে।
কৃষকেরা জানান, বর্তমানে বিল থেকে ধান কেটে গোলায় উঠানোর কাজ চলছে। একজন দিনমজুরকে তিন বেলা খেতে দিয়ে দিনে ৬-৭শ’ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। সরকার যদি মৌসুমের শুরুতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে তাহলে শত শত কৃষক উপকৃত হয়।
নড়াইল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২ মে থেকে সারা দেশে ধান চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবছর প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকা দরে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হবে। তবে জেলা থেকে কত মণ ধান সংগ্রহ করা হবে তার কোনো নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।
নড়াইল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনোতোষকুমার মজুমদার দাবি করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় থেকে কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে দেওয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন। ধানের টাকা কৃষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হয় বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের নাম সংগ্রহ করে তালিকা করা হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকেরাই এই তালিকাতে আছে। তবে জেলা থেকে আরো বেশি ধান সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হয় বলে তার অভিমত।

আরও পড়ুন